মাগুরা প্রতিদিন : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামে ভয়াবহ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অভিযুক্ত লিপটনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ—এমন তথ্য মিলেছে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে।
শুক্রবার গভীর রাত থেকে শুরু হয়ে ভোর পর্যন্ত চলা তাণ্ডবে শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এবং ওই ঘটনার মূল হোতা লিপটনকে ছাড়িয়ে নিতে রাজনৈতিক নেতারা দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন বলেও শোনা যাচ্ছে।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, আটক লিপটন ওই গ্রামের কৃষক চাঁদ আলি মিয়ার ছেলে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রের দাবি, অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় চলাফেরা করলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে এলাকায় ফিরে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি আমতৈল স্কুলমাঠে বড় ধরনের জনসমাগম ঘটিয়ে নিজের শক্তি প্রদর্শন করেন। অন্তত ৩ হাজার লোকের জন্যে ভূরিভোজ আয়োজন করে সে সময় তিনি নিজেকে যুবলীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন। বিভিন্ন রঙের পোস্টার তৈরি করে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেন।
সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাকে মাগুরা শহর থেকে আটক করা হলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শ্রীপুর থানা ও ডিবি পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।
এদিকে, নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর দাবি—আটক লিপটনকে ছাড়িয়ে নিতে প্রভাবশালী একটি মহল সক্রিয়ভাবে তদবির চালাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা রহস্য আরও ঘনীভূত করছে।
তবে পুলিশের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, লিপটনের নামে নানান অপরাধে ১০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি মামলা গত দুই বছরের।
এদিকে শুক্রবারের রাতের ঘটনার পর আমতৈল গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।