মাগুরা প্রতিদিন : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল ও নহাটা গ্রামে সামাজিক দলাদলি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত ৩টা পর্যন্ত চলা এ তাণ্ডবে শতাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় এবং অন্তত ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আকস্মিক হামলায় ঘুমন্ত মানুষজন দিশেহারা হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তাদের ভূমিকা ছিল সীমিত—শুধু টহল ও হুইসেল বাজানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী জানায়, আমতৈল ও নহাটা গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দুটি সামাজিক দলে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন নহাটা গ্রামের বিএনপি কর্মী টিটন মোল্লা ও আওয়ামী লীগ কর্মী ইদরিস। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় বিএনপি কর্মী লিপটন মিয়া ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান কনক। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলতে থাকায় প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে আসছিল, যারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে রফিকুল ইসলাম, আরব আলী, ইয়াহিয়া সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে সালেক খান, আতিয়ার মোল্যা, রেন্টু খান, নুরুজ্জামান, ইদ্রিস বিশ্বাস, রশিদ মোল্যা, লেলিন মোল্যা, পল্টু মোল্যা, হাকিম শেখ, আতর শেখ, সরোয়ার শেখ, ইকবাল শেখ, সোহেল রানা, চান্দা, রাজু, নজিরউদ্দিন, আনিচ শেখ, মতিন শেখ, আল-আমিন, আদিল উদ্দিন, ছমির মোল্যা, আমির মোল্যা, নুর মহম্মদ বিশ্বাস, পান্নু বিশ্বাসসহ শতাধিক পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় এবং অন্তত ২০টি গবাদি পশুসহ মূল্যবান মালামাল লুট হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় রাশেদ মোল্যা, নাসিরুল, আকিদুল, আসিরুল, ইব্রাহিম শেখ, কাজল শেখ, পিকুল শেখ, মুকুল শেখ, ইসরাফিল ও রোকেয়া বেগমের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এরই মধ্যে ভ্যানচালক আসিরুলের বাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং আগুনে তার দুটি ছাগল জীবন্ত দগ্ধ হয়। স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের নিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছেন।
বিবাদমান দুই পক্ষই একে অপরকে হামলার জন্য দায়ী করেছে। লিপটন মিয়া ও টিটন মোল্লা উভয়েই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, নিজেদের প্রভাব বাড়াতে উভয় পক্ষই একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান জানান, সামাজিক দলাদলি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি।