মাগুরা প্রতিদিন : বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) রাষ্ট্রপতির সরকারি প্যাডে স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
কম্পিউটারে টাইপ করা পদত্যাগপত্রে তিনি নিজ হাতে রঙিন কালিতে শুরুতেই লিখেছেন, “শ্রদ্ধাজনেষু, আসসালামু আলাইকুম। যা চিঠিতে ব্যক্তিগত সৌজন্যের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা গেছে। শেষেও কলমের কালিতে নিজের সাক্ষর রয়েছে।
পদত্যাগ পত্রে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি মো. সাহাবুদ্দিন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেন এবং নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রেখে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে একটি সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আওতায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত গ্রহণ করা হয় এবং সেই অনুযায়ী একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে ওই সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে। নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয় এবং তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। তার দায়িত্বপালনের সময় দেশে বড় ধরনের কোনো সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়নি।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে তার শারীরিক অসুস্থতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। লেখা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে তার শরীরে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ‘Autonomic Neuropathy’ রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন।
শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না এবং তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ রয়েছে ওই পদত্যাগ পত্রে।
চিঠির শেষাংশে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা উল্লেখ করা হয়েছে।
পদত্যাগপত্রে দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সবার মঙ্গল কামনা করা হয়েছে।