আজ, শনিবার | ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | রাত ১০:৪৯

ব্রেকিং নিউজ :
মাগুরার মহম্মদপুরে ডাক্তারের উপর হামলার ভিডিও ভাইরাল মাগুরা-১ আসনে মনোয়ার, মাগুরা-২ আসনে নিতাই রায় চৌধুরী নির্বাচিত মাগুরা-১ আসনে এবারের ‘মূল প্রতিদ্বন্দ্বী’ জামায়াতের অতীত রেকর্ড দুর্বল বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের মানুষ রংধনুর মতো বাস করবে— জয়ন্ত কুমার কুন্ডু নির্বাচন দোরগোড়ায়: সম্ভাব্য আসনচিত্রে বিএনপি এগিয়ে, বড় ফ্যাক্টর স্বতন্ত্ররা শ্রীপুরে নির্বাচন বিষয়ে প্রশাসনের সচেতনতামূলক মহড়া মাগুরায় ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত মাগুরায় ছাত্রলীগ নেতা রুহুল মল্লিকের উপর হামলা, বাড়ি ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ মাগুরা-২ আসনে ৯১ নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি চায় জামায়াত মাগুরায় কম্বলের বিনিময়ে ভোট চাইতে গিয়ে জামায়াতের ৫ কর্মী আটক

শুভ জন্মদিন : সৈয়দ নাজমুল হাসান লোভন

জাহিদ রহমান: আজ ২০ সেপ্টেম্বর সাবেক কৃতি ফুটবলার, বিশিষ্ট সংস্কৃতিজন মাগুরার কৃতি সন্তান সৈয়দ নাজমুল হাসান লোভনের শুভ জন্মদিন। সত্তর-আশির দশকের মাঠ মাতানো ছন্দময় এক ফুটবলার ছিলেন তিনি।

খুব অল্প বয়সেই মাগুরা থেকে এসে সেই সময়কার জমজমাট ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে খেলতে এসে ঝড় তুলেছিলেন তিনি। সেই ৭৬ সালে যশোর জেলা একাদশের হয়ে প্রথম তিনি আলো ছড়ান শেরেবাংলা কাপ ফুটবলে। সেবার এই কাপ মুঠোবন্দী করে যশোর জেলা একাদশ। পরেরবছরই ঢাকাতে কোনো লীগ না খেলেই জাতীয় যুবদলে চান্স পেয়ে বিস্ময়কর ঘটনার জন্ম দেন তিনি।

এরপর ঢাকা প্রথম বিভাগ লীগে আজাদ, ওয়ারী হয়ে শক্তিশালী বিজেএমজিতে পা রাখেন। সৌন্দর্যময় ফুটবল উপহার দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। ওয়ারীর অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ৮০ সালে লোভন-আজমত-আসলাম-বাসু-কাওসাররা বিজেএমসিকে নিয়ে যায় লীগ চ্যাম্পিয়নশীপের দোরগোড়ায়। অপরাজিত রানার্স আপ হয় বিজেএমসি।

পরের বছর লীগের শুরুতেই সৈয়দ নাজমুল হাসান লোভন বিজেএমসির হয়ে লীগে ফুটবলের রঙ ছড়িয়ে এগুতে থাকলেও দুর্ভাগ্য এসে হানা দেয়। ওয়াপদার সাথে খেলায় মারাত্বক আহত হন। এরপর মাঠে ফিরে আসাটাই নাজমুল হাসান লোভনের জন্য ভীষণ দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। পঙ্গু হাসপাতালে পায়ের অপারেশন করেন। ৮২ সালে বিজেএমসিতে ফের চুক্তিবদ্ধ হলেও পা ঠিক না হওয়ার কারণে মাঠের বাইরেই থাকেন।

৮৩ তে খানিকটা ফিট হয়ে মাঠে নামেন। সাবধানে কয়েকটা ম্যাচ খেললেও ফের পায়ে ব্যথা পান। পরের বছর ৮৪ সালে যোগ দেন ব্রাদার্স ক্লাবে। নিয়মিত অনুশীলন করে ফিট হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাগ্য বিমুখ হওয়ার কারণে হতাশ হয়ে পড়েন। সেই হতাশা, দুঃখ-বেদনা আর দুচোখ ভরা কান্না নিয়ে ঢাকার মাঠ থেকে তিনি বিদায় নেন নিরবে-নিভৃতে। জাতীয় যুব দল ছাড়া জাতীয় দলের হয়ে খেলেন। ৮১ সালে সবুজ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

সৈয়দ নাজমুল হাসান লোভন ছিলেন ফুটবলের এক অসামান্য প্রতিভা। যেমনটি বলেছেন সাবেক ফুটবলার আজমত। তাঁর মতে, ‘লোভন আহত না হলে সেই হতো সেই সময়ের সেরা তারকা। এত স্কিলফুল ফুটবলার আমি আর দেখিনি।’ সাবেক তারকা ফুটবলার ইলিয়াস বলেন, ‘সৈয়দ নাজমুল হাসান লোভনের খেলায় যে সৌন্দর্য ছিল তা তুলনাহীন। আহত হওয়ার কারণেই তাঁর স্টাইলিশ খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছে ফুটবল প্রেমিকরা।’

দেশের সরোচ্চ গোলদাতা সাবেক ফুটবলার আসলামের মতে, লোভন আহত না হলে তাঁর চেয়ে বেশি সক্ষমতা দেখাতে পারতেন। লোভনের সাথে বহু ম্যাচ খেলা সাবেক ফুটবলার যশোরের সাথীর মতে, ‘লোভন ভাই এর খেলার স্টাইলই ছিল অন্যরকম।এরকম বলপ্লেয়ার বারবার আসেনা। কিন্ত ইনজুরির কারণে অনেক ফুটবল থেকে তাঁকে বিদায় নিতে হয়।

সৈয়দ নাজমুল হাসান লোভন বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। আশির দশকে ঢাকার কোনো এক সাংবাদিক লিখেছিলেন ফুটবলার লোভন রুপালি পর্দায় নায়ক হলেও পারতেন।

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2022
IT & Technical Support : BS Technology