মাগুরা প্রতিদিন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির শূরা সদস্য আব্দুল মতিন। জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তার দাখিল করা নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণে ব্যক্তিগত জীবন, দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক অবস্থান সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ ও চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।
হলফনামা অনুযায়ী, আব্দুল মতিনের বয়স ৬৮ বছর ৬ মাস। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি এসএসসি পাস এবং পেশায় কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। ১৯৮০ সাল থেকে তিনি যশোর জেলার অধিন মাগুরা মহকুমা জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা ২৬ বছর মাগুরা জেলা জামায়াতের আমিরের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য।
৪৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। ফৌজদারি কোনো মামলায় তিনি অভিযুক্ত হননি বলেও হলফনামার ৩ নম্বর ক্রমিকে ঘোষণা দিয়েছেন।
সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, তার নিজের নামে রয়েছে ৫ একর ৩৩ শতাংশ কৃষিজমি। এছাড়া ২৬ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত একটি দ্বিতল বাড়িও তার মালিকানায় রয়েছে। এসব স্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে ১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের হিসেবে তিনি নগদ অর্থ ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯ শত টাকা থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি নিজের নামে ৭ ভরি এবং তার স্ত্রীর নামে ১৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ৩ একর ২৫ শতাংশ জমির কথাও হলফনামায় অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়ের উৎস হিসেবে তিনি কৃষিখাত থেকে বছরে ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে বছরে ২ লাখ ৮৬ হাজার ২শ’ টাকা আয় করেন বলে জানিয়েছেন। সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে তার কোনো প্রকার দায়দেনা নেই বলেও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। তিন পুত্র এবং তিন কন্যা সন্তানের জনক আব্দুল মতিন সন্তানদের অর্থ সম্পদের কোনো তথ্য উপস্থাপন করেননি।
নিজের আয়ের বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনি আয়কর পরিশোধ করেছেন ৩ হাজার ৫ শ’ টাকা।
মাগুরা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে সংসদীয় আসন-৯১ (মাগুরা-১) এর বৈধ প্রার্থী হিসেবে তাকে ঘোষণা করা হলেও, হলফনামার সঙ্গে সংযুক্ত অঙ্গীকারনামায় তার স্বাক্ষরের নিচে আসন পরিচয় হিসেবে “আসন-৯২ (মাগুরা-১)” উল্লেখ থাকতে দেখা গেছে।
নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্য এবং অঙ্গীকারনামার এই অসঙ্গতি নিয়ে মাগুরা-১ আসনের ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।