মাগুরা প্রতিদিন: মাগুরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জিকিউ গ্রুপের মালিক কাজী সালিমুল হক কামাল বলেছেন, চাকরির আবেদনপত্রে হিন্দু না মুসলিম কিংবা মেয়েদের বৈবাহিক পরিচয় বড় নয়। আবেদনকারী কারো ধর্মীয় পরিচয় জানার দরকার নেই। একইভাবে একটি মেয়ের ক্ষেত্রেও সে বিবাহিত কিনা অবিবাহিত সেটি জানা জরুরি না। পৃথিবীর অনেকে দেশেই চাকরির বায়োডাটাতে সেটি উল্লেখ করতে হয় না। আমিও তেমনটি চাই।
তিনি সোমবার মাগুরার শালিখা উপজেলার বুনোগাতী কলেজ মাঠে উপজেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
মাগুরা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী সালিমুল হক কামাল উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যে ধর্মের লোকই হউন আমরা সকলেই প্রতিবেশি। আমি এক ধর্মে বিশ্বাসী আপনি আরেক ধর্মে বিশ্বাসী। কিন্তু আমরা সকলেই একই মাঠে জমি চাষ করি। একই স্কুল কলেজে পড়াশোনা করি। একই হাট বাজারে যাই। আমাদের মধ্যে ধর্মিয় বিশ্বাস ছাড়া আর কোনো পার্থক্য নেই। আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবেই মূল্যায়ন করি। আমরা চাকরি বাকরির ক্ষেত্রে কখনই তার ধর্ম দেখিনা। দেখি তার যোগ্যতা।
কাজী সালিমুল হক কামাল আরো বলেন, আমাদের হাই কমাণ্ডের কাছে মাগুরা থেকে খবর যায়, এখানকার হিন্দুরা শুধু হিন্দুদের ভোট দেয়, অন্যদের দেয় না। অথচ আপনারা অতিতেও আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। চাকরির জন্যে আমাকে কখনো কোনো টাকা দেয়া লাগেনি। মন্দিরে গম দেওয়ার জন্যেও কোনো টাকা নেইনি। ইনশাআল্লাহ আমাকে ভোট দিলে আগামীতেও একই রকম শান্তিতে থাকবেন। আমরা কোনো হিন্দু ভাইদের উপর যাতে কোনো অত্যাচার না হয় সেটি খেয়াল রেখেছি। আপনারা অতীতে আমার সাথে যেমন ছিলেন ভবিষ্যতেও থাকবেন। কোনো প্রকার জমি দখল বাড়ি দখল, চান্দাবাজি হতে দেবো না।
মাগুরা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হলেও সোমবার মাগুরা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী সালিমুল হক কামালের মনোনয়ন দাবি করা হয় এই সমাবেশ থেকে।
শালিখা উপজেলা উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রণ্ট সভাপতি অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শালিখা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর হোসেন টুকুসহ অনেকে।