মাগুরা প্রতিদিন: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বড়ুরিয়া গ্রামীণ মেলা ও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়ুরিয়া গ্রামে আয়োজিত এই মেলাকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে ওঠে আশপাশের অন্তত ৫০টি গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ। এতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিনোদনের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা।
প্রতিবছর বাংলা পৌষ মাসের ২৮ তারিখে অনুষ্ঠিত এই মেলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ গ্রামীণ উৎসব হিসেবে পরিচিত। মূল মেলার দিন ছাড়াও এর আগে ও পরে অন্তত ১৫ দিন ধরে চলে নানা আনন্দ আয়োজন। এ সময় দূরদূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজনের আগমনে গ্রামগুলো হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
মেলাকে ঘিরে প্রায় তিন বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসে নানা ধরনের দোকান ও স্টল। মাছ-মাংস, মিষ্টান্ন ও খাবারের দোকানের পাশাপাশি কাঠের ফার্নিচার, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী, মৃৎশিল্পীদের তৈরি খেলনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচায় জমে ওঠে পুরো এলাকা। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল চিরায়ত গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। বরাবরের মতো এবারও শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই দৌড়। দুপুর ২টার দিকে প্রতিযোগিতা শুরুর আগে ঘোড়ার মালিক, ফকির ও ছোয়াররা (জকি) ঘোড়াগুলো প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করেন। পরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অন্তত ১৫টি ঘোড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। শীতের বিকেলের মিষ্টি রোদে উত্তেজনাপূর্ণ এই দৌড় উপভোগ করতে মাঠের চারপাশ ও রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেন লাখো দর্শক।
মেলা কমিটির সভাপতি ও মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খাঁন জাহাঙ্গীর আলম বাচ্চু বলেন, শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী মেলা গ্রামবাংলার সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবছর আশপাশের কয়েক জেলা থেকে লাখো মানুষের আগমন ঘটে। সকলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে এবারের মেলা সম্পন্ন হয়েছে।
ভবিষ্যতেও এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে মেলা কমিটি সচেষ্ট থাকবে বলে তিনি জানান।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। ঐতিহ্য, আনন্দ ও সামাজিক সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত এই আয়োজন স্থানীয় মানুষের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করেছে।