মাগুরা প্রতিদিন : জামিনে মুক্তি পেলেও কারাফটক থেকে আবার গ্রেফতার করা হয়েছে মাগুরার শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি। তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শ্রীপুর আঞ্চলিক বাহিনীর অধিনায়ক আকবর হোসেন মিঞার ছেলে।
এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। পরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামী হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ২৮ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যায় তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও কারাফটক থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
কারাফটক থেকে কুতুবুল্লাহ হোসেনের আটকের বিষয়ে তার ছোট ভাই শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান শরিয়ত উল্লাহ রাজন বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সন্তান। আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে আমাদের কারো নাম নেই। ভাই আমেরিকা থাকা অবস্থায় তার নামে দুটি মামলা হয়েছে। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দেশে ফিরে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন করে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার কোনো দূর্বলতা নেই বলেই দেশে ফিরে এসেছেন। তিনি এবারের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্যে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তিনি জামিন পেলেও কারাফটক থেকে অন্যায়ভোবে আটক করে আবার তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে রাজন বলেন, বিগত সময়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার ভাই মাগুরা-১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রফেসর ডাক্তার সিরাজুল আকবরের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। তখন জনগণ তাকে বিজয়ী করলেও নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে ফলাফল ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও নৌকা মার্কার প্রার্থী কাজী তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। আমাদের পরিবারের জনপ্রিয়তাকে ভয় পেয়ে বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে একাধিক মিথ্যা মামলা দমন করা হয়েছে। সেই একই ধারাবাহিকতা এখনও চলছে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান বলেন, তার নামে অন্য মামলা থাকায় পুনরায় আটক করা হয়েছে।