মাগুরা প্রতিদিন : চলে গেলেন সাবেক ফিফাব্যাজ রেফারী যশোরের কাজী আনসারুল ইসলাম মিন্টু। আন্তর্জাতিক ফিফা ব্যাচধারী খ্যাতি সম্পন্ন ফুটবল রেফারী তথা সংগঠক হিসেবে খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ত্ব যশোরের কৃতি সন্তান আনসারুল ইসলাম মিন্টু ভাই ০৪ এপ্রিল ২০২৬ প্রত্যুষে যশোর নওয়াপাড়া রোড, ঘোপ এর নিজ বাস ভবনে ইন্তেকাল করেন ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) ।
শনিবার বাদ জোহর ঘোপ মসজিদে জানাযা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।
রেফারি ছাড়াও তিনি ছিলেন যশোরের একজন সফল স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সংগঠক যার অনুপ্রেরণা ও ছোঁয়ায় যশোরের অনেক সফল খেলোয়াড় প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন।
কাজী আনসারুল ইসলাম স্কুল জীবন থেকে একাধারে এ্যথলেটিক্স, হকি, ফুটবল ও ক্রিকেট খেলোয়াড় ছিলেন। পরে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফুটবল রেফারী হিসাবে সুনাম অর্জন করেন।
তিনি ১৯৭৩ ঢাকায় ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত রেফারী প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিয়ে পঞ্চাশ জনের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে রেফারী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
১৯৭৭ এ দ্বিতীয় এবং ১৯৭৯ এ প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়ে ঢাকায় জাতীয় পর্য়ায়ে তিনি খেলা পরিচালনার সুযোগ পান। ১৯৮৪ তে তিনি ফিফা প্যানেল ভুক্ত হন এবং ঐ বছর আবাহনী বনাম মোহামেডানের মধ্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলা পরিচালনার মাধ্যমে দেশের কৃতি রেফারী হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, ঢাকা ফুটবল লীগে আবাহনী বনাম মোহামেডান তথা গুরুত্বপূর্ণ দল সমূহের মধ্যকার অত্যন্ত স্পর্শকাতর খেলাসমূহ পরিচালনার মাধ্যমে তিনি সুনাম অর্জন করেন।
কাজী আনসারুল ইসলাম মিন্টু রেফারী হিসেবে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ খেলা সাফল্যের সাথে পরিচালনা করেন সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ;১৯৮৫ করাচীতে কায়েদে আযম ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল টুর্ণামেন্ট। ১৯৮৭ তে তৃতীয় সাফ গেমস্ ফুটবলে ৫টি খেলা সহ ফাইনাল খেলা পরিচালনা । বাংলাদেশে আগাখান গোল্ডকাপ, প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ, এশিয়াকাপ সহ একাধিক অন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা। তিনি ১৯৭৬ হকি আম্পায়ার হিসেবেও প্রশিক্ষণ নেন এবং ১৯৭৭ এ অনুষ্ঠিত জাতীয় হকি প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন।
কাজী আনসারুল ইসলাম মিন্টু তাঁর সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরুপ ১৯৮৬ তে ‘‘বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি’’ যশোর শাখা কর্তৃক সেরা রেফারী, ১৯৮৭ তে ‘বাংলাদেশ ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা’ কর্তৃক সেরা রেফারী পুরষ্কার লাভ করেন। তিনি ‘ফুটবল রেফারী এ্যাসেসিয়েশন’ যশোর শাখার সহ-সভাপতি ছিলেন। ‘ঘোপ স্পোর্র্টিং ক্লাব’ এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি স্ত্রী সাবিনা ইসলাম এবং দুই পুত্র সন্তান রেখে গেছেন।