আজ, বৃহস্পতিবার | ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | সকাল ৭:৩৩

ব্রেকিং নিউজ :
আবার হামলার শিকার হলেন নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী মাগুরা থেকে প্রত্যাহার হলেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মাগুরায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের মানববন্ধন মিরপুরে বাসা থেকে বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে রহস্য মাগুরায় নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন মোতাকাব্বীর আহমেদ আবার বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম মাগুরায় চোরাই ৫টি মোটরসাইকেলসহ চোর সিণ্ডিকেটের এক সদস্য গ্রেফতার দুই মহাদেশ সফরের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়লেন এমপি মনোয়ার খান এআই ট্রাফিক ব্যবস্থা ঘিরে নতুন প্রতারণা-বিআরটিএ-এর সতর্কবার্তা স্বর্ণজয়ী ইয়াসমিনকে শ্রীপুরে সংবর্ধনা, বালিকা ফুটবল দলও পেল পুরস্কার

শতবর্ষ পেরিয়ে মাগুরার ঐতিহ্যবাহী দত্ত বাড়ির জগদ্ধাত্রী পূজা

মাগুরা প্রতিদিন ডটকম : মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে দত্ত বাড়ির উদ্যোগে শনিবার ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১শ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাগুরা শহরের দত্ত বাড়ির উদ্যোগে বনেদিআনায় এখনও অটুট রয়েছে শক্তির দেবি জগদ্ধাত্রী দুর্গার আরাধনা।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় পূজারিদের উপস্থিতিতে নিজনান্দুয়ালী গ্রামের বর্তমান মন্দিরে শুরু হয় পূজা অর্চনার কাজ। সময় গড়ানোর সাথে সাথে পার্শ্ববর্তি এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ভক্তবৃন্দ নানা অর্ঘ নিয়ে সেখানে ভিড় করেন।

মাগুরা শহরের দত্ত পরিবারের সদস্য প্রয়াত শ্রী সন্তোষ কুমার দত্তের সহধর্মিনী লিপিকা দত্ত জানান, ১৯৩০ সাল থেকে বর্তমান মন্দিরে পূজা হচ্ছে। তবে তার আগে একই  স্থানে টিন ও খড়ের ঘরে পূজা শুরু হয়। বংশ পরম্পরায় যেটি এখনও টিকে আছে সমহিমায়।

মন্দিরের পূজারি ব্রাহ্মন প্রলয় চক্রবর্তি জানান, কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু বাঙালির ধর্মীয় মানসে রাজসিক দেবী দুর্গা (পার্বতী) ও তামসিক কালীর পরেই স্থান সত্ত্বগুণের দেবী জগদ্ধাত্রীর।

তিনি বলেন, জগদ্ধাত্রী পূজার নিয়মটি একটু স্বতন্ত্র। দুটি প্রথায় এই পূজা হয়ে থাকে। কেউ কেউ সপ্তমী থেকে নবমী অবধি দুর্গাপূজার ধাঁচে জগদ্ধাত্রী পূজা করে থাকেন। আবার কেউ কেউ নবমীর দিনই তিন বার পূজার আয়োজন করে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পূজা সম্পন্ন করেন। তবে এই পূজার অনেক প্রথাই দুর্গাপূজার অনুরূপ।

জগদ্ধাত্রী বা জগদ্ধাত্রী দুর্গা হিন্দু শক্তি দেবী। ইনি দেবী দুর্গার (পার্বতী) অপর রূপ। উপনিষদে তার নাম উমা হৈমবতী। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও তার উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও জগদ্ধাত্রী আরাধনা বিশেষত বঙ্গদেশেই প্রচলিত।

জগদ্ধাত্রী পূজা বাঙালি হিন্দু সমাজের একটি বিশিষ্ট উৎসব হলেও, দুর্গা বা কালীপূজার তুলনায় এই পূজার প্রচলন অপেক্ষাকৃত আধুনিক কালে ঘটে। অষ্টাদশ শতকে নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় তার রাজধানী কৃষ্ণনগরে এই পূজার প্রচলন করার পর এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। যদিও দেবী জগদ্ধাত্রী যে বাঙালি সমাজে একান্ত অপরিচিত ছিলেন না, তার প্রমাণও পাওয়া যায়।

শূলপাণি খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতকে কালবিবেক গ্রন্থে কার্তিক মাসে জগদ্ধাত্রী পূজার উল্লেখ করেন। পূর্ববঙ্গের বরিশালে খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে নির্মিত জগদ্ধাত্রীর একটি প্রস্তরমূর্তি পাওয়া যায়। বর্তমানে এই মূর্তিটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ সংগ্রহশালার প্রত্নবিভাগে রক্ষিত।

কৃষ্ণচন্দ্রের রাজত্বকালের আগে নির্মিত নদিয়ার শান্তিপুরের জলেশ্বর শিবমন্দির ও কোতোয়ালি থানার রাঘবেশ্বর শিবমন্দিরের ভাস্কর্যে জগদ্ধাত্রীর মূর্তি লক্ষিত হয়। তবে বাংলার জনসমাজে কৃষ্ণচন্দ্রে পূর্বে জগদ্ধাত্রী পূজা বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি। কেবল কিছু ব্রাহ্মণগৃহে দুর্গাপূজার পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হতো।

পারিবারিক এ পূজার ঐতিহ্য রক্ষা করতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ নিমাই দত্ত ও তুষার দত্ত।

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2022
IT & Technical Support : BS Technology