মাগুরা প্রতিদিন : নুর জাহান এক ছেলেকে যুগ্ম সচিব বানিয়েছেন। এক ছেলে হয়েছে বুয়েটের শিক্ষক। এক ছেলে থাকেন কানাডা। তাদের মা মৃত অবস্থায় ঘরের মধ্যে পড়ে আছেন। গায়ে পচন ধরে গেছে। অথচ তার সন্তানেরা মায়ের কোনো খবর জানেন না।
পুলিশ সোমবার রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকায় একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে ওই মায়ের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে।
রবিবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল পেয়ে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পল্লবী থানা পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, উদ্ধারের অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহটিতে পচন ধরেছিল।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম মিরপুরের ওই বাসায় তার মেয়ের সঙ্গেই থাকতেন। তবে মেয়ে থাকতেন অন্য একটি কক্ষে।
একই বাড়িতে থাকা সত্ত্বেও নুর জাহান কবে কীভাবে মারা গেছেন জানেন না তিনিও। এই বিষয়টি বেশ রহস্যজনক মনে করে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধার মেয়েকে তার মায়ের মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞেস করলে যে উত্তর দেন তা আমার কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধা যে কক্ষটিতে থাকতেন, সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন, অগোছালো এবং আবর্জনায় ভরা।
কক্ষের ভেতরের পরিবেশ দেখে স্পষ্ট বোঝা গেছে যে দীর্ঘদিন ধরে তিনি চরম অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে ছিলেন।
মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে। তারা সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। একজন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডায় থাকেন। তবে তারা মায়ের সঙ্গে থাকতেন না, আলাদা বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ আরো জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত এক সপ্তাহ আগে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।