মাগুরা প্রতিদিন: মাগুরায় চলতি মৌসুমে আমন চাষের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সার কৃষকরা ডিলারদের কাছ থেকে পেলেও টিএসপি ও ডিএপি সারের সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক কৃষক প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, ধানক্ষেতে উপরিপ্রয়োগের জন্য টিএসপি ও ডিএপি সার প্রয়োজন হলেও ডিলারের কাছে গিয়ে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও ৫০ কেজির এক বস্তা প্রয়োজন হলেও কৃষকদের মাত্র ১০ কেজি করে সার দেওয়া হচ্ছে। এতে সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ ব্যাহত হচ্ছে।
তথ্যমতে, মাগুরা জেলায় এ বছর প্রায় ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। জেলায় সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নে তুলনামূলক বেশি ধানের আবাদ হয়। ওই ইউনিয়নের কুশবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমার চার বস্তা টিএসপি সার প্রয়োজন। কিন্তু ডিলারের কাছ থেকে এখন পাচ্ছি না। আগামী সপ্তাহে দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।’
মঘি গ্রামের কৃষক আশরাফুল মল্লিক ১০ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার টিএসপি ও ডিএপি সার প্রয়োজন। কিন্তু ডিলার মাত্র ১০ কেজি করে দিয়েছেন। এতে প্রয়োজন মিটছে না।’
মঘি বাজারের বিসিআইসি ডিলার নিমাই পাল বলেন, ‘চলতি মাসে ২ হাজার ৮০০ বস্তা ইউরিয়া সার পেয়েছি। এর বিপরীতে টিএসপি পেয়েছি ১৫০ বস্তা, ডিএপি ২৭২ বস্তা এবং এমওপি ১৯৯ বস্তা। ইউরিয়া পর্যাপ্ত থাকলেও কৃষকদের মধ্যে ডিএপি ও টিএসপির চাহিদা বেশি। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় বাধ্য হয়ে কৃষকদের ১০ কেজি করে সার দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এখনো সমাধান হয়নি।’
তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মাগুরা জেলায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ টিএসপি ও ডিএপি সার রয়েছে। দাম কম হওয়ায় কৃষকরা অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার ব্যবহার করেন। ইচ্ছেমতো ব্যবহার করলে সরকারও সেই অনুযায়ী সরবরাহ দিতে পারবে না। এরপরও কোনো কৃষকের প্রয়োজন হলে কৃষি কর্মকর্তাদের জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কৃষকদের দাবি, আমন ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে টিএসপি ও ডিএপি সারের সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।