আজ, বৃহস্পতিবার | ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | সকাল ৭:৩১

ব্রেকিং নিউজ :
স্মৃতির আয়নায় প্রিয় শিক্ষক কাজী ফয়জুর রহমান স্মৃতির আয়নায় প্রিয় শিক্ষক কাজী ফয়জুর রহমান মাগুরা সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৭ শ্রীপুরে ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক কাজী ফয়জুর রহমানের ইন্তেকাল মাগুরার শ্রীপুরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা! শায়লা রহমান সেতুর নির্মম মৃত্যুর বিচারের দাবিতে জাসদের মানববন্ধন সমাবেশে মাগুরায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগে মামলা-মানববন্ধন ইদ কার্ড ফেরাতে মাগুরায় “পরিবর্তন আমরাই” শ্রীপুরে ডোবা থেকে নব জাতকের মরদেহ উদ্ধার মাগুরায় ডাক্তার দম্পত্তির অস্ত্রপচারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ

একজন আলোকবর্তিকা শামসুন নাহার আহমেদ

লায়লা আরিয়ানী হোসেন : আলোকিত মাগুরার একজন আলোকবর্তিকা। তিনি শামসুন নাহার আহমেদ। রত্নগর্ভা মা বেগম ওয়াজেদা আহমেদ এবং জহুর আহমেদের ছয় সন্তানের  মধ্যে তৃতীয় এবং একমাত্র কন্যা। বিদুষী মেয়ে হবে, সেই ইচ্ছা বুকে নিয়েই মেয়ের নাম শামসুন নাহার রেখেছিলেন তাঁর বাবা। ডাকতেন মুকুল বলে।

মাগুরা জেলার সাংস্কৃতিক, রাজনীতি এবং শিক্ষা বিষয়ে অন্যতম একজন সংগঠক, সক্রিয় কর্মী এবং নেত্রী স্থানীয় ব্যক্তিত্ব, সবার চেনা মুকুল দিদি । যে সময়ে তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, সময়ের সাহসী মানুষ হয়ে এগিয়ে গেছেন নিজ প্রতিভা এবং লড়াকু মনোভাব নিয়ে। তাঁর বাবা ছিলেন দিল্লীতে কেন্দ্রীয় সরকারের একজন পদস্থ কর্মকর্তা, জন্ম, শৈশব সে সুবাদে দিল্লী তে হলেও, বাবার আকস্মিক মৃত্যুর কারণে ফিরে আসা মাগুরায়। তাদের বাবার বাড়ী নড়াইল জেলায়, মায়ের বাড়ী মাগুরা। মহকুমা শহর হওয়াতে গ্রামের তুলনায় সুযোগ সুবিধা বেশ একটু বেশিই,মা য়ের সাথে থিতু হলেন তাই পারনান্দুয়ালি গ্রামে। তাঁর মামা এডভোকেট হাবিবুর রহমান স্কুলে নিয়ে ভর্তি করে দিলেন, মেয়েদের হাই স্কুল ছিলনা বিধায়, ছেলেদের স্কুলে প্রভাতী শাখায়। খুব ভোরে নদী পার হয়ে স্কুল যেতে হত। স্কুল সার্টিফিকেট পাশ করার পর, আত্মীয় পরিজনের সদুপদেশের ভঙ্গিতে বলা হুমকি অগ্রাহ্য করে, মা পাঠিয়ে দিলেন কোলকাতা, লেডী ব্রাবোর্ন কলেজে। রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কাজে আনুষ্ঠানিক যাত্রা এখানেই শুরু। কোলকাতায় থাকতেন কলেজ হোস্টেলে, স্থানীয় অভিভাবক মামাতো বোন বনানী চৌধুরীর কাছে ছুটির সময়ে, যিনি প্রথম বাঙ্গালী মুসলিম নায়িকা। কলেজের সোশ্যালে অংশগ্রহণ, শিক্ষক হিসেবে গুণীজনের সান্নিধ্য, এভাবেই রাজনীতির সাথে প্রথম পরিচয়, কারণ সে সময় মেধাবীরা আসতেন রাজনীতিতে। বাম রাজনীতির নামকরা নেতা/নেত্রীকে যখন পেলেন নিজের শিক্ষক হিসেবে, আগ্রহ বাড়তে থাকল, সাথে পড়াশুনা।

কলেজের লাইব্রেরীর নানা রকম বই আর গুণী মানুষের সাহচর্য। সহপাঠী ছিলেন ডঃ শাফিয়া খাতুন, সিনিয়র পেয়েছিলেন জাহানারা ইমামকে।কলেজে পড়ার সময় গান শিখেছিলেন শ্রদ্ধেয় কলিম শরাফির কাছে, তার আগে, বড়ভাই এর কাছে।

মেয়েকে পড়াতে যেয়ে বহুবার একঘরে হতে হয়েছে, কিন্তু প্রচণ্ড শক্ত মা, একটুও  ভয় পাননি। বি.এ. প্রথম বর্ষ শুরু করেও দাঙ্গা শুরু হওয়ায় ফিরতে হল মাগুরায়। তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল বিয়ের জন্য। বিয়ের ব্যাপারটা আর ঠেকানো গেলনা। অতঃপর ১৭ বছর বয়সে পশ্চিম পাকিস্তানের করাচী শহরে সংসার শুরু। সেখানেই, রেডিও পাকিস্তানের করাচী কেন্দ্রে বাংলা বিভাগে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে প্রথম চাকরি। সংবাদ পাঠ ছাড়া অনুবাদক এবং সঙ্গীত শিল্পী হিসেবেও অংশ নিয়েছেন। চাকরী নিয়মিতকরনের সময় পরীক্ষা নিয়েছিলেন একজন আইরিশ ভদ্রলোক, এরিক ওয়ারনার। সে সময় চীফ নিউজ এডিটর ছিলেন সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, লালসালুর লেখক, তাঁর  মতো মানুষের  সাহচর্যে কাজ শিখতে শিখতে প্রতিভা এতটাই শানিত হয়েছিল, সেরা সংবাদ পাঠিকা এবং নজরুল সঙ্গীতের সেরা গায়িকা নির্বাচিত হয়েছিলেন। সামাজিক অনুষ্ঠান বা ঘরোয়া আয়োজন , হরহামেশা ডাক পড়তো, বাংলা রবীন্দ্র নজরুল ছাড়াও হিন্দি উর্দু গাইতে পারতেন।করাচীতে তাঁদের সমমনা কিছু পরিচিতজনেরা মিলে তৈরি করেছিলেন নজরুল একাডেমী। কী করে আরও ভালো আয়োজন করা যায়, চর্চা কি করে শুদ্ধ সুন্দর হয় সেই ছিল চেষ্টা।  রেডিওতে সপ্তাহে একদিন বাংলা গান গাওয়ার সুযোগ এলে,  রবীন্দ্র সঙ্গীতের শিক্ষা কাজে লাগাতেন, দ্রুত লয়ের গানগুলো গাইতেন যেন প্রশ্ন না ওঠে। একটু ধীর লয় হলেই, কর্তা ব্যাক্তিদের ভ্রুকুটি, টেগোর সং নাকি…।রবীন্দ্র সঙ্গীতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। রেডিওর চাকরী, তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, মুহূর্তের মধ্যে বলা কথা পৌঁছে যায় হাজার মাইল ছাপিয়ে, প্রিয়জনের কানে, শব্দের শক্তি তাঁকে মুগ্ধ করেছিল। চলছিলো জীবন ভালমন্দ মিলে, কিন্তু বিধিবাম, যে সংসারের কারণে করাচী বসবাস, সংসারে এলো ঝড়, ফিরে আসতে  হল মাগুরা , ভাঙ্গা মন নিয়ে। জীবনটাই রাখতে চাইলেন না। চেষ্টা সফল হয়নি, সৃষ্টির মালিক তো তাঁর জন্য লিখে রেখেছেন অনেক খ্যাতি , সম্মান, তাঁর জন্য আছে অনেক কাজ , অনেক দায়িত্ব। তারপর, ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।

শুরু করলেন পড়াশুনা। উচ্চ মাধ্যমিকের ১৪ বছর পর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইভেট ক্যান্ডিডেট হিসেবে স্নাতক করে, শুরু করলেন, স্নাতকোত্তর, বাংলা সাহিত্য বিষয়ে। থাকতেন মন্নুজান হলে। শুরু হল আবার সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ। শুধু নিজের ডিপার্টমেন্ট নয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজেও ডাক পড়তো গান গাইবার জন্য। নাটকের  রিহার্সাল, গীতিনকশার চিত্রনাট্য লেখা, সবখানেই মুখর প্রাণবন্ত উপস্থিতি তাঁর। ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় কর্মী, সংগঠক। মন্নুজান হলের ছাত্রী সংসদ নির্বাচনে মিশ্র প্যানেল জয়ী হল, শামসুন নাহার আহমেদ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে ভিপি, বর্তমানের প্রথিতযশা কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন জিএস। দল মত নির্বিশেষে জনপ্রিয় ছিলেন সহপাঠী, সিনিয়র জুনিয়র সবার মাঝে। এত বছরের ব্যবধানে পড়তে আসা এই নারী, নিজ যোগ্যতায় সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করেছিলেন। এম এ শেষ করে ফিরে আসেন মাগুরা। ষাটের দশকের শেষভাগ। সংসারে ভাঙ্গন, বিচ্ছেদ পরবর্তী বিষাদ, সব কিছু থেকে তাঁকে মুক্ত রাখতে তাঁর কাজে কর্মে জড়িত থাকা খুব জরুরী ছিল। স্বজনের মধ্যে তাঁর মামা এডভোকেট হাবিবুর রহমান, স্থানীয় মুরুব্বী, শুভাকাঙ্ক্ষী, ভাই বেবী সিদ্দিকী, সবাই তাঁকে উৎসাহ দিতে লাগলেন কিছু করার জন্য। মাগুরা ললিতকলা বিদ্যাপীঠ নামে একটি সংগঠনের সাথে জড়িত হয়ে, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সক্রিয় হন। সে সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যারা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ জনাব খান জিয়াউল হক এবং অন্যান্য সকলের দেয়া তথ্যে জানা যায়, অনুষ্ঠানের রিহার্সাল হতো তাঁদের বাড়িতে। অনুষ্ঠান পরিকল্পনা, শিল্পী বাছাই, প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত, তাঁর উপস্থিতি ছিল আবশ্যক, মেয়ে বলে পিছনের থাকেননি বরং সমান অংশীদারি মনোভাবে সব দায়িত্ব পালন করেছেন আগাগোড়া।এই প্রতিষ্ঠান থেকেই পরবর্তীতে শিল্পকলা একাডেমীর শুরু। প্রারম্ভিক পর্যায়ে, শিল্পকলা একাডেমীর প্রথম কমিটিতে শামসুন নাহার আহমেদ ছিলেন সহ-সভাপতি হিসেবে। পরবর্তীতে নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করলে, তিনি ছিলেন সকল আয়োজনের উদ্যোক্তাদের একজন। নারী হিসেবে মাগুরার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি প্রথম সক্রিয় হয়েছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে, তবে পদ পদবীর আকাঙ্ক্ষা কখনোই ছিলনা।তাঁর নির্দেশনা পরিকল্পনায় মাগুরায় সকল শিল্পীরা একসাথে এক মঞ্চে গেয়েছেন।অনুশীলন তাঁদের বাড়িতেই হয়েছে বহুদিন পর্যন্ত, তাঁর নির্দেশনা সকলেই মন থেকে মেনে চলতেন। গীতিনকশার  মনোমুগ্ধকর নিবেদনে অনুষ্ঠান উপভোগ করেছে মানুষ অনেকবার।রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী, বর্ষা মঙ্গল, চৈত্র সংক্রান্তি বা নববর্ষ, সব অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল সব সময়। সমমনা সহশিল্পি, সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাথে নিয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে ভালবাসতেন। বাংলা ১৪০০ সালের বর্ষ বরণের আয়োজনের কথা আজো মানুষ স্মরণ করে।সকলের সমান অংশগ্রহণ, সেইসাথে যোগ্যতার মূল্যায়ন করার দারুণ সমন্বয় তিনি করেছেন তার সাংগঠনিক দক্ষতায়। নেতৃত্বের বাহবা নয়, সমন্বয়ের সাম্য মৈত্রী বজায় রাখাই তাঁর কাজের ধরণ।

মাগুরা কলেজের তৎকালীন প্রিন্সিপাল, শিক্ষানুরাগী কিছু প্রগতিশীল ব্যক্তির উৎসাহে মাগুরা কলেজে, বর্তমান হোসেন শহীদ সোহরোওয়ারদি কলেজ, যোগ দেন বাংলার প্রভাষক হিসেবে। মাগুরায় প্রথম নারী প্রভাষক হিসেবে তিনি মাইলফলক স্থাপন করেন। যদিও তখন তুমুল তোলপাড় হয়েছিল, কেয়ামতের আলামত হিসেবে মনে হয়েছিল কারো কাছে, কেউ যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, একই সাথে কিছু মানুষ প্রগতির পথে অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন, প্রয়োজনে ঢাল হয়েছিলেন, শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন তাঁর যোগদানের পক্ষে। মাগুরা কলেজে তিনি অল্প কিছুদিন, বছর দুই মতো ছিলেন।

এরপর ঢাকায় চলে আসেন, ব্যাক্তিগত জীবনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে। সে সময় তিনি তাঁর স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাইওনিয়ার এন্টারপ্রাইজ এবং পূর্বাশা কন্সালট্যান্টস এর পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সেন্টার থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। স্বামী UNIDO এর বিশেষজ্ঞ কন্সাল্ট্যান্ট ছিলেন, ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠা বিষয়ে সেমিনার এবং রোটারি ক্লাবের প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে ভ্রমণ করেন ভ্রমণ করেন হংকং, জাপান, ফিলিপিন্স সহ আরও অনেক দেশ। ব্যবসায়ের খুঁটিনাটি শিখলেও সময়মত প্রয়োগ করতে পারেননি, স্বামীর অবর্তমানে ব্যবসায়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি।আবারো তাঁকে ফিরে আসতে হল মাগুরা।

অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন কামারখালি ডিগ্রী কলেজে, বর্তমানে সরকারি হয়েছে, তাঁর উদ্যোগে নামকরণ হয়েছিল, ওই এলাকার সূর্য সন্তান বীর শ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ ডিগ্রী কলেজ হিসেবে। তাঁর উদ্যোগে, চেষ্টায়, স্থানীয় সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়, বাংলাদেশে প্রথম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার নামকরণ বীর শ্রেষ্ঠর নামে। আবারো কো-এডুকেশন কলেজে নারী অধ্যক্ষ, নারীর অধীনে কাজ করবেনা, আন্দোলন গর্জন আস্ফালন হলেও, ধোপে টেকেনি।  বাড়ি থেকে  বেশ দুরে এই কলেজে তাঁর ডেইলি আসা যাওয়া। ভাঙ্গাচোরা প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করাতে উঠে পড়ে লাগলেন। নামকরণ, সরকারিকরন, উন্নয়ন, পরীক্ষার সেন্টার আনা, বিজ্ঞান বিভাগ চালু, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরী, সুপেয় পানি, মেয়েদের কমনরুম, ছেলেদের হোস্টেল, বৃক্ষরোপণ একের পড় এক যেন চ্যালেঞ্জ নিলেন, আর সফল হতে থাকলেন।বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির চেয়ারপার্সন ছিলেন। ১৯৭৯ থেকে শুরু করে, অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি সংসদ সদস্য হওয়া পর্যন্ত। অবসর গ্রহণের সময় হওয়ার আগেই, আবারো পরিবর্তন, সাফল্যের এক শীর্ষ বিন্দু ছুঁয়ে দিলেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬, সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হলেন, সে সময় তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কমিটির সদস্য ছিলেন। এ সময় তিনি Cambridge University , United kingdom , থেকে International Planned Parenthood Federation আয়োজিত কোর্সে অংশগ্রহণ করেন ১৯৯২ সালে। ১৯৯৪ সালে Cairo ICPD  সম্মেলন এ বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সালে ইরানের তেহরানে The First OIC Symposium on Women’s Role in Islamic Society তে যোগ দেন।

লেখালিখি করা ছিল তাঁর সহজাত প্রবণতা, প্রচারের ব্যাপারে ততটাই বিমুখ। তবু লিখেছেন বিভিন্ন সময়, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক ইনকিলাব, প্রথম আলো’র মত পত্রিকায়। মাঝের বাড়ি, পাক্ষিক পত্রিকায় লিখেছেন বেশ কয়টি আর্টিকেল। মাঝের বাড়ির কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধি জুবায়ের আল মাহমুদ তাঁর ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাঁর ক্রমাগত অনুরোধ অগ্রাহ্য করতে না পেরে, শামসুন নাহার আহমেদ রাজী হন বই লিখতে। ২০১৫  সালে তাঁর লেখা মলাটে আবদ্ধ হয়। ‘আমার সময়’ নামের এই বইটির প্রকাশনা উৎসব করা হয় মাগুরা পাবলিক লাইব্রেরীতে, হঠাত প্রস্তুতি এবং সীমিত আয়োজনে। ২০১৪ থেকেই শারীরিক অবনতি, ২০১৬ থেকে তিনি হার্ট,লাংস কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অসুস্থ থেকে ২০১৭ সালের ২৬শে অক্টোবর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বারডেম হাসপাতালে। তিনি সলিমুল্লাহ রোড, মোহাম্মদপুরস্থ কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত।

জীবনে বাধা আসতেই পারে, থমকে যেতে পারে নিয়মিত দিন যাপন, কিন্তু থেমে থাকা নয়, চলতে থাকতে হয়।কাজ করার নেশায় কিছু মানুষ কাজ করে যায়, গড়ে দেয় অনেক কিছু, নিজের নাম কোথাও দেখার চেয়ে নিজের স্বপ্ন ঘুড়ির নাটাই-সুতো  নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাঁদের স্বীকৃতি দেয়ার দায়িত্ব থাকে তাদের, যারা সুফলভোগী। সাধারণ মানুষকে সকলের অবদান সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানানোর দায়িত্ব নিতে হয় সচেতন মানুষকে। প্রজন্মের জন্য অনুসরনীয় ব্যক্তিত্বের কথা জানানোর প্রথা গড়ে তোলা প্রয়োজন। সবার, বিশেষ করে মেয়েদের জানা দরকার, এত সহজে হার মানা নয়, থেমে যাওয়া নয়, নিজেই নিজের সাথে তুমুল প্রতিযোগিতা করে এগোতে হয়।বলা কি যায়, কোন মোড়ের বাঁকে আছে বিজয়মুকুটের নিশানা? সব প্রাণেই আছে আগুন, কিছু মানুষ স্ফুলিঙ্গ অনুভব করে, ঘুরে দাঁড়াতে জানে।পৃথিবীতে নিজের পায়ের ছাপ রাখতে পারলে, লড়াইয়ে জিতে যেতে পারলে, দিন শেষে ঘুরে দাঁড়াতে পারলে, ফেলে আসা সময়ের হেরে যাওয়ার গল্পটাও হাসিমুখে বলা যায়।প্রতিটা বাধা অতিক্রম করতে পারলে নিজের শক্তিটা চেনা যায়।
লায়লা আরিয়ানী হোসেন: লেখিকা, বাংলাদেশ বেতারের ঘোষক

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2022
IT & Technical Support : BS Technology