আজ, শনিবার | ২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | বিকাল ৩:২৩

ব্রেকিং নিউজ :
শালিখা-মহম্মদপুরে অ্যাড শ্যামল-অ্যাড মান্নান উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত শ্রীপুরের বরিশাটে সংগ্রাম ও কাজী তারেক পক্ষীয়দের মধ্যে দিনভর সংঘর্ষ মাগুরার বড়খড়ি গ্রামে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা! দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শালিখা মহম্মদপুর উপজেলার নির্বাচন নবীজীকে কটুক্তি: মাগুরার রামচন্দ্রপুর গ্রামে দুটি বাড়িতে আগুন-পুলিশের গুলিতে অর্ধশত আহত মাগুরার এমপি সাকিব আল হাসানের নামে জুয়ার ভূয়া বিজ্ঞাপন মাগুরায় ফিলিস্তিন সংহতি সমাবেশ শ্রীপুরে সমাজসেবা কার্যালয়ের অনুদানের অর্থ বিতরণ মাগুরার শ্রীপুরে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ দু’জন আটক সাংবাদিক লক্ষণ চন্দ্র মন্ডলের অন্তেস্টিক্রিয়া সম্পন্ন

বেদনার সুর বাজে-অনন্যা হক

অনন্যা হক : লাল খোয়া বিছানো রাস্তা টা এখন একটা পিচ ঢালা পথ। শুধু তো একটা রাস্তা, একটা জড় অস্তিত্ব, তবুও কত প্রাণের কত স্মৃতি নিয়ে কালের সাক্ষী যেন সে। কলেজের পেছন থেকে আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে সোজা গিয়ে এরপর এঁকে বেঁকে চলে গিয়েছে রাস্তা টা। রাস্তার আশেপাশে ছিল বেশীর ভাগ পরিচিত মানুষ দের বাড়ি। কলেজের পাশ দিয়ে বলে ঐ এলাকার নাম ছিল কলেজ পাড়া। এলাকা টা ছিল স্কুল, কলেজের শিক্ষকদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত।

আমরা যারা ওখানে বেড়ে উঠেছি, চলতে ফিরতে শিক্ষক দের সামনে পড়া টা ছিল নিত্য সময়ের ব্যাপার। তখন শিক্ষক মানেই তার সাথে এক সমীহ এবং ভয়ের ব্যাপার জড়িত থাকতো। এটা একেবারে স্বভাবগত ছিল সবার। সেই খোয়ার রাস্তা দিয়ে ছিল অগণিত শিক্ষক দের পদচারণা। কারো হাতে ব্যাগ,কখনও ছাতা হাতে হেঁটে যাওয়া দৃশ্য মনে পড়ে। যাদের অনেকেই এখন চিরতরে পাড়ি দিয়েছেন পরপারে। ছিল খুব ছিমছাম, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। ঐ রাস্তা টা দিয়ে জীবনে হেঁটেছি কত। স্কুল, কলেজ, দোকান পাটে যাওয়ার একমাত্র চলাচলের ঠিকানা ছিল।

এক সময় দেখতে অভ্যস্ত ছিলাম অগণিত পরিচিত মুখ, যেন ছিলাম সবাই সবার চেনা। এখন রাস্তার দৃশ্যপট অনেক পাল্টে গিয়েছে। আজকাল যখন ঐ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাই,পুরোনো স্মৃতি গুলো আমার পিছু নেয়। মনের আনাচে ভর করে অনেক পরিচিত মুখ। যাদের কে এখন আর সচরাচর দেখিনা। মনে হয় যেন সেই পথ ধরে আমি হেঁটে চলেছি, কত স্মৃতি এসে ভর করে মনে। মনে পড়ে রাস্তার দুই ধারে খোলা প্রান্তর,বড় গাছ এবং বুনো জঙ্গলে ভরে থাকতো কিছু পর পর। একটু দূরে দোয়ার পাড়ের দিকে যেতে পড়তো বাঁশঝাড়। তখন বাঁশঝাড় ছিল এক অকারণ ভয়, জানি না সে ভয়ের উৎস কি ছিল। হাঁটতে হাঁটতে দেখেছি কত বুনো ফুল,ছিল নাম না জানা ফুল।

মনে পড়ে ধুতরা ফুলের কথা, মনে পড়ে দোপাটি ফুল, কলমি লতা,ভাঁটি ফুল, এমন কত ফুলের কথা। গন্ধ না থাকলেও রুপ, রঙে মন কেড়ে নিত। মনে পড়ে বুনো ফুল গুলো কে, মনে পড়ে হেঁটে চলা কত মানুষ কে, হাঁটতে পথে কত পরিচিত মানুষের সাথে থেমে কথা বলেছি, এখন আর দেখিনা তেমন কাউকে। এখন দেখা মুখ গুলো সব নতুন অচেনা মুখ। হয়তো এদের মধ্যে কেউ খুব পরিচিত কারো সন্তান কিন্তু চেনা না। রাস্তার পাশে খোলা জায়গা গুলো দখল করে নিয়েছে বড় বড় অট্টালিকা। আশেপাশের বাড়ির মুরব্বীরা কেউ কেউ গত হয়েছেন, যারা আছেন তারা বয়স আর অসুখের ভারে ঘরের ভেতরে আটকে পড়েছেন।

পাঁচ ছয় তলা বিল্ডিং গুলোর ফ্ল্যাটে উঠেছে কত অচেনা ভাড়াটিয়া। চলতে পথে কিছু মুখ জানালা দিয়ে উঁকি দিতে দেখা যায় একটা কৌতুহল নিয়ে। এখানকার এক সময়ের পরিচিত হয়েও নিজেকে মনে হয় কেমন করে যেন অপরিচিতের খাতায় চলে গিয়েছি। বুকের মধ্যে পরিচিত পরিবেশ হারানোর এক বেদনার সুর বেজে ওঠে। লাল ইটের রাস্তা টা এখন একটা পিচ ঢালা পথ, এই রাস্তা ধরে হেঁটেছে কত প্রেমিক পুরুষ, অগণিত প্রেমিকার স্বপ্নের প্রেমিক রা, কিংবা নীরব, প্রচ্ছন্ন প্রেম বুকে নিয়ে কত প্রেমিক, প্রেমিকা! হোক সে জড়,কিন্তু ছিল বহু প্রাণবন্ত স্মৃতির সাক্ষী। হারানো মানুষ, হারানো ঠিকানা, হারানো পথ বিলীন হয় হারানো সুরের মাঝে, যে স্মৃতি বুকে শুধু বেদনার সুর হয়ে বাজে।

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2022
IT & Technical Support : BS Technology