আজ, শনিবার | ২১শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | সন্ধ্যা ৬:১৮

ব্রেকিং নিউজ :

সার্থক জন্ম, এক জ্বলন্ত শিখা! লতাজী ভালো থাকুন ওপারে

অনন্যা হক : কতবার যে আমার আরাধ্য স্বপ্নচূড়া ছুঁয়ে এসেছি,
তাঁর কন্ঠ ও সুরের মূর্ছনা বেয়ে।এ তো সে,যে কোন
কেউ নয়,এক কন্ঠের জাদুকর,সুরের রাণী,শিল্পী
লতা মঙ্গেশকর।
এমন কন্ঠ সৃষ্টিকর্তা আর কাউকে দেননি।যেন শুধু তাঁর জন্যেই বরাদ্দ ছিল।এক অসম্ভব ভাগ্যবতী
নারী,এক অমূল্য সৃষ্টি!

সকালে টিভিতে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ দেখার পর থেকে মনে হচ্ছে এমন,যেন খুব কাছের কোন কেউ, আত্মার সাথে সম্পৃক্ত কাউকে হারালাম।চোখে পানি এসে গেল।ফিরে গেলাম আমি আমার কৈশোরে, যখন আব্বা রেডিওতে শুনতেন লতার গান।সেই থেকে তাঁর গান শোনা শুরু।এরপর পূজামণ্ডপ থেকে মাইকে ভেসে আসতো তার অসম্ভব জনপ্রিয় গানগুলো একের পর এক।হারিয়ে যেতাম কোথাও,এমন হয় অজস্র বার যতবার শুনি তাঁর সব কালজয়ী গানগুলো।

এরপর অজস্র বার শুনেছি যৌবনে,বাড়িতে,হলের
জীবনে নিজদের রুমে।তখন অন্য রকম ভালো লাগা।যেন প্রেমে পড়ছি বা পড়বো এখনই,এমনই
আবেগ মন ছুঁয়ে যায় তাঁর সব ধরনের গান শুনলেই।সে হোক একক বা ডুয়েট,সিনেমার গান,
বাংলা, হিন্দি যে কোন গান।

আমার কাছে তাঁর হিন্দি গান এর কোন তুলনা
নেই। সে কি কন্ঠ,সে কি সুর,সে কি কন্ঠের কাজ,
যেন তিনি স্পর্শ করে যান এক ইহজগতের বাইরের কেন জগতকে।আমিও শুনতে গিয়ে চলে
বহু বহু দূরে সে এক অপার জগত যেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।কখনও কখনও কিছু গান আছে
শুনতে গিয়ে শুনতে পারি না,কখনও বন্ধ করে
দিতে হয়,আবেগ যেন নিয়ে যায় জন্ম মৃত্যু এপার,
ওপার কত কি সব রহস্যময় ধোঁয়াশার জগতে।

এমনই অনেক অনেক গান লিখে, সুর করে শুধু
লতাজীকে দেয়া হয়েছে, একমাত্র তাঁর পক্ষেই
সম্ভব হয়েছে পূর্ণ মাত্রায় সে সব আবেগকে স্পর্শ
করার।সৃষ্টিকর্তা এমন মানুষ হাতে গোনা তৈরী
করেন,যা সারা পৃথিবীর সম্পদ হিসাবে রয়ে যায়।

আজ খুব মনে পড়ছে আব্বার কথা,অনেক গান
পাগল এক মানুষ, রেডিওতে সব সময় শুনতেন
তাঁর গান।তাঁর চলে যাওয়ার সাথে মনে বারবার
ফিরে আসছে খুব হারানো সে সব দিন।সব কিছুই
তো একের সাথে আর এক সম্পর্কজড়িত বিষয়।
সেই আমার শহর মাগুরার দিনগুলো,পূজা কিংবা,
যে কেন অনুষ্ঠানে মাইকে এসব গান বাজালে যেন
সারা শহর জেগে উঠতো এক ছন্দময় তালে।
সবার মনে বেজে উঠতো সুরের বেহাগ।
গান পাগল না হলেও তাদের মনও অন্য রকম হয়ে
উঠতো।গান এমনই সুন্দর মনকে বিমোহিত করার
এক জীবন ঘনিষ্ঠ শিল্প।

অনেক দূরে থেকেও,তিনি আমাদের মনকে
আলোড়িত করে গেছেন বহু বছর ধরে।এভাবে
আপন হয়েছেন বহু মানুষের।কোন দিন কাছ থেকে না দেখে,না স্পর্শ করে একটা মানুষ শুধু
তাঁর প্রতিভা দিয়ে কেমন করে জয় করেছেন
কোটি কোটি প্রাণ।

বিরানব্বই বছর বয়সে তিনি চলে গেলেন চিরতরে।
কিন্তু ভক্তদের মনে বেঁচে থাকবেন যুগ থেকে যুগ,
কাল থেকে কাল।যত না তাঁর এই ধরনীর জীবৎকাল, তার থেকে আরো বহু বহু কাল তিনি
হয়ে থাকবেন এক অমর প্রাণ হয়ে।শেষ হবে না,
কোন দিন তার কন্ঠের কারুকাজ,তাঁর শৈল্পিক
অবদান, তাঁর সুরের মূর্ছনা।

অসম্ভব গুণী একজন শিল্পী,তাঁর জীবনব্যাপী
সাধনা করেছেন গান নিয়ে,শুধু গানের জন্যই
যার জন্ম।চলে গেলেন আজ কোন সে পারে,
থেমে গেল এক মূল্যবান প্রাণ,থেমে গেল এক
কন্ঠ,আর যেখানে সুর তাল লয় ছন্দ তুলবে না কোন দিন। তবু্ও বেজে যাবে সে কন্ঠ, সুরের মূর্ছনা নিয়ে যাবে অজস্র গান পাগল মানুষকে অপার এক ভালো লাগার জগতে।
যেখানে সুন্দর শুধু মনকে ছুঁয়ে যায়,
অসুন্দরের মৃত্যু হয়।

কিছু মানুষ শেষ হয়ে হয় না শেষ,
কিছু প্রাণ স্তব্ধ হয়েও আলোড়ন তোলে,
নিঃশেষ হয়েও এঁকে রেখে যায় অজস্র মনে প্রদীপের জ্বলন্ত শিখা!আলোর মতো শক্তি।
বলবো না একটি নক্ষত্রের পতন হলো,
বরং আকাশে একটি নক্ষত্র জ্বলজ্বল করে
জ্বলবে চিরকাল।

এমন সার্থক জন্ম কতজনের হয়?
লতাজী ভালো থাকুন ওপারে!

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2022
IT & Technical Support : BS Technology