আজ, বৃহস্পতিবার | ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | রাত ৯:১৫

ব্রেকিং নিউজ :
বৃষ্টির প্রার্থনায় নামাজ পড়ে কাঁদলেন শ্রীপুরের মুসল্লিরা মহম্মদপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় শিক্ষকের মৃত্যু মাগুরায় প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ মাগুরায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহিদুর রেজা চন্দন ও নবীব আলী মহম্মদপুরে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন শালিখায় ৫ জনের মনোনয়ন পত্র জমা স্মৃতির আয়নায় প্রিয় শিক্ষক কাজী ফয়জুর রহমান স্মৃতির আয়নায় প্রিয় শিক্ষক কাজী ফয়জুর রহমান মাগুরা সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৭ শ্রীপুরে ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক কাজী ফয়জুর রহমানের ইন্তেকাল মাগুরার শ্রীপুরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা!

স্বপ্নের সেতু পদ্মায় একদিন

সুলতানা কাকলি : পদ্মার ঢেউরে…মোর শুন্য হৃদয়পদ্ম নিয়ে যা.. যারে…পদ্মার ঢেউরে……!
মাগুরায় জন্ম নিয়ে পদ্মারে পাবো কই? শুধু নবগঙ্গা দেখতাম আর মাঝে মাঝে ইজ্জত আলী চাচার নৌকায় নবগঙ্গা পাড়ি দিয়ে মায়ের সাথে পারনান্দুয়ালী খালা বাড়ি বেড়াতে যেতাম। এই ছিলো আমার নদীর স্মৃতি। শুধু পদ্মা নদী নিয়ে বইতে পড়া আর পদ্মার ইলিশ দিয়ে ভাত খাওয়া-এটুকু জ্ঞানের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলাম।

পদ্মা নদী কতো বিশাল!
অসীম, কল্পনা করেই আমার শৈশবের দিনগুলো কাটতো!
ভাবতাম!যদি পদ্মারে একটু দেখতে পারতাম! তারপর এলো সেই কাঙ্খিত ক্ষণ।

কিশোরী বেলায় রাজশাহীতে পদ্মা দেখার প্রথম সৌভাগ্য হলো। পদ্মার পাড়ে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইলাম। রাশি রাশি জলরাশি, স্রোতস্বীনি ঢেউ, উঁচু উঁচু ঢেউয়ের ভিতর ডিঙি নৌকা নিয়ে সাঁ করে স্রোতের টানে ভেসে যাচ্ছে। বিকেলে পদ্মা ও প্রকৃতি মিলে মিশে আমার হৃদয়কে মাতাল করে দিয়ে ছিলো।এরপর ঢাকায় যাবার সময় কতবার ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিলাম তার ইয়ত্বা নেই পায়ের নিচে ওর গর্জন, স্রোত, আমাকে তখন রোমাঞ্চিত করে তুলতো।

বড়দের মুখে শুনতাম!
পদ্মার এপার থেকে নাকি ওপার দেখা যায় না। আমি অবশ্য তখন দূর হতে ওপারের দৃশ্যের অবয়ব দেখেছিলাম। গ্রামের চিহ্ন, গাছপালা, অস্পষ্ট দৃশ্যমান ছিলো। প্রবাদ আছে,”গামছা দিয়ে আগুন বেঁধে রাখা যায়না।” তেমনি এই পদ্মার উন্মত্ততা তখন বেঁধে রাখার ক্ষমতা ছিলো না এবং কল্পনাও করা যেতো না।

একূল ভাঙছে, ওকূল গড়ছে, প্রতিনিয়ত জনপদ, জমি, ফসল ধ্বংস করছে। পদ্মা পাড়ের মানুষের আহাজারি বোবা কান্না মনটাকে ভারাক্রান্ত করে তুলতো। সেই বিশাল পদ্মা নদীর উপর বাঁধ হবে শুনে চমকিত হয়েছিলাম। এও কি সম্ভব? আবার নিজস্ব অর্থায়নে? চোখ কপালে উঠলো! একই সাথে হতাশও হলাম! জীবনে আর ওই বাঁধ দেখার সৌভাগ্য হবেনা! তার আগেই অক্কা পেয়ে পরপারে চলে যেতে হবে। কিন্তু ইতিহাস হয়ে গেলো! পদ্মা নদীর দুই পাড় বারো কিলোমিটার উন্মত্ত, স্রোতস্বীনি পদ্মাকে শাসন করে তার উপর স্বপ্নের সেতু নির্মিত হলো! কত বাধা, নাটক, সব কিছুকে উপেক্ষা করে সত্যই পদ্মার বুকে বিশাল সেতু দৃশ্যমান হলো! যাই হোক! মনের মাঝে দারুণ অনুভূতি, ওই সেতু দেখবোই ইনশাআল্লাহ! কিন্তু একের পর এক দূর্গতি এসে বাধাগ্রস্ত করে তুলছিলো। শেষ পর্যন্ত আমরা ছয়জনের একটা দল নিয়ে পদ্মা সেতু দেখতে বেরিয়ে পড়লাম।

আঠারো সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে দারুণ রোমাঞ্চিত মন নিয়ে সেতু দেখতে বেরিয়ে পড়লাম। ফরিদপুর যাবার পথে বাইপাস সড়ক ধরে এগিয়ে চলেছে গাড়ি। একটা পেট্রল পাম্পের সামনে চা বিরতির জন্য দাঁড়াতে হয়েছিল অধৈর্য্য মন ওই দেরি টুকু মানতে চায়না! দু’পাশের পটে আঁকা ছবির দৃশ্য দেখতে দেখতে যখন ভাঙার মোড়ে পৌছে গেলাম তখন ওভার ব্রীজের উপরে দাড়িয়ে চর্তুঃপার্শ্বের ঘোরানো পেচানো রাস্তাগুলো দেখে বাকরুদ্ধ হলাম। ওই রাস্তা গুলো সকল দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলকে এক সূত্রে গ্রোথিত করেছে, ওখানে দাঁড়িয়ে ভাবলাম আমি বোধহয় পশ্চিমের কোন দেশে এসে পড়েছি। মাদারীপুর, শিবচর পার হয়ে শরিয়তপুর জেলার জাজিরায় পদ্মা নদীর পাড়ে এসে আমরা দাঁড়ালাম।বড় বড় ব্লক ফেলে নদীর দুই তীরে বাধা হয়েছে। তপ্ত রোদ, বালিয়াড়ি, নৌকার মাঝির হাঁকডাক, গ্রামীণ জীবনের কর্ম ব্যস্ততা, চাঞ্চল্যে ভরপুর এলাকাটি। একটা নৌকা ভাড়া করে জাজিরা প্রান্ত হতে একদম তিরিশ নম্বর পিলারের নিচে আমাদের নৌকাটি থেমে গেলো। ইচ্ছে ছিল পিলারটা ছুঁয়ে দেখবো, কিন্ত মাঝির আপত্তির কারণে ছোঁয়া সম্ভব হলো না। দ্বিতল বিশিষ্ট এই বহুমুখী সেতুটি কংক্রিট ও ষ্টীল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে। চার লেনে নির্মিত এই সেতুর প্রস্থ বাহাত্তর ফুট।

পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক দুই প্রান্তে জাজিরা ও মাওয়া। সেতুটির দৈর্ঘ্য পনেরো কিলোমিটার এবং দুই পাশের বারো কিলোমিটার নদী শাসন করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত গামছা দিয়ে আগুন বাঁধতে পারা গেছে? ২০২২ সালের মধ্যেই পদ্মা সেতু চালু হবে। বেঁচে থাকলে ইনশাআল্লাহ ওই সেতুর উপর দিয়ে হাঁটবো একদিন। ভ্রমন পিয়াসীদের খাবার দাবারের চিন্তা না করাই ভাল। নদী তীরে অনেক খাবার হোটেল আছে।সস্তায় খুব উন্নত মানের খাবার পাওয়া যায়। নদীর পাড়েই হোটেল মালিকদের কর্মচারী নিয়োগ দেয়া আছে। দর কষাকষি করলে একজনের খাবার ( ড্রাইভারের) ফ্রী পাওয়া যেতে পারে। নদীর টাটকা ইলিশ কিনে হোটেল মালিক ডুবো তেলে ভেজে সব্জি ও ডালের সাথে খুবই যত্ন সহকারে খাওয়ালেন। পড়ন্ত বিকেল, মেঘলা আবহাওয়ায় চারদিকের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে, হৃদয় ও মনকে আপ্লত করে বাড়ি পথে রওনা দিলাম। সবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ- নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু তৈরির দৃঢ়তা, সাহস দেখানোর জন্য।
সুলতানা কাকলি: লেখিকা, সাবেক গার্লসগাইড

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2022
IT & Technical Support : BS Technology