মাগুরা প্রতিদিন: আট বছর ধরে পুরাতন হাসপাতালের ভবনে চলছে মাগুরা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি অধিগ্রহণে সরকারি উদ্যোগ থমকে থাকলেও এবার সেই সংকট কাটাতে নিজেরাই জমি দিতে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী।
মাগুরা শহরতলীর পারলা ও গোয়ালখালি এলাকার অন্তত ৪০ জন ভূমিমালিক সম্মিলিতভাবে ২০ একর জমি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দানের অঙ্গীকার করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে ভূমিমালিকদের স্বাক্ষরিত জমি দানের অঙ্গীকারনামা মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. মোতাকাব্বির আহমেদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় শহরের বিশিষ্ট ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন, ফরিদ হোসেন খান, বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান খান পিকুলসহ জমিদাতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে মাগুরা মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই জমি গ্রহণ করে দ্রুত ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট মাগুরায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরের বছরের জানুয়ারিতে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে শুরু হয় মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম। কিন্তু প্রতিষ্ঠার আট বছরেও নিজস্ব ক্যাম্পাস পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের একটি ভবনে অস্থায়ীভাবে চলছে এর শিক্ষা কার্যক্রম। বর্তমানে তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ চলছে।
স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অথচ ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সূত্র জানায়, চার বছর আগে মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ২৫ একর জমি অধিগ্রহণে ৫৪ কোটি ৭৫ হাজার টাকার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু একনেকের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া এগোয়নি। ফলে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রকল্পটিও কার্যত আটকে আছে।