আজ, শনিবার | ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | রাত ১০:০৯

ব্রেকিং নিউজ :

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক কাজী ফয়জুর রহমানের ইন্তেকাল

মাগুরা প্রতিদিন : বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক রাজনীতিক মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার তখলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও হাট দারিয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠকালীন প্রধান শিক্ষক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কাজী ফয়জুর রহমান ১৫ এপ্রিল সোমবার রাজধানীর জাতীয় হ্নদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

(ইন্না লিল্লাহী ওয়াইন্না ইলাইহিরাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

প্রয়াত শিক্ষক কাজী ফয়জুর রহমানের ছেলে কাজী অলি রহমান মাগুরা প্রতিদিন ডটকমকে জানান, গতকাল রবিবার তাঁর বাবার শারীরিক অবস্থার বেশি অবনতি হলে দ্রুত তাঁকে শ্যামলীর বাসা থেকে হ্নদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। আজ সোমবার সকাল ১১ টার দিকে সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাদ আছর শ্যামলীস্থ শিশু পল্লীতে তাঁর প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নিজগ্রামে নেওয়া হবে। আগামীকাল ১৬ এপ্রিল সকাল আটটায় সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর দ্বিতীয় জানাযা শেষে দাফন করা হবে।

কাজী ফয়জুর রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ নানান ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। দীর্ঘদিনের শিক্ষক পেশায় তিনি ছিলেন এক হীরক খণ্ড। শ্রীপুরবাসীর কাছে সাহসী, কর্মঠ ও সৃষ্টিশীল শিক্ষক হিসেবে তিনি বরাবরই অনন্য এক মর্যাদায় সিক্ত হয়ে আছেন।   

শিক্ষাবিদ কাজী ফয়জুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মাগুরা মহকুমা ন্যাপের অন্যতম নেতা ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্র্বাচনে মাগুরা-২ আসন থেকে ন্যাপ থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে তিনি দলবদল করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং মাগুরা মহকুমা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মাগুরা-২ আসন থেকে ফের বিএনপির প্রাথী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন এবং অল্পসংখ্যক ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মো. আছাদুজ্জামানের কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে মাগুরা বিএনপি নেতৃত্বের সাথে রাজনৈতিক মর্যাদার প্রশ্নে বিভেদ তৈরি হলে তিনি দল থেকে ইস্তফা দেন এবং রাজনীতি থেকে দূরে চলে যান।

১৯৯৭ সালে হাট দারিয়াপুর সম্মিলনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকে তিনি ঢাকার শ্যামলীতে বসবাস করতেন। সেখানে ‘ওরিয়েন্টাল সেমিনারি’ নামে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল পরিচালনার সাথে যুক্ত ছিলেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক কাজী ফয়জুর রহমানের বড় ছেলে লে.ক কাজী রবি রহমান ২০০৯ সালে সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ হন।

কাজী ফয়জুর রহমানের মৃত্যুতে জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরি কমিটির সদস্য জাহিদুল আলম, মাগুরা জেলা জাসদ, সাবেক মাগুরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ আওয়াল, সাবেক প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা মতিয়ার রহমান, শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুতুব উল্লাহ কুটি, দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর, সাংবাদিক মতিউর রহমান টুকু, লেখক-গবেষক জাহিদ রহমান, আমতৈল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোল্লা ফয়জুর রহমান লাভু, শ্রীপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে।

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2022
IT & Technical Support : BS Technology