আজ, মঙ্গলবার | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | বিকাল ৫:১১

ব্রেকিং নিউজ :
মাগুরায় প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ মাগুরায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহিদুর রেজা চন্দন ও নবীব আলী মহম্মদপুরে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন শালিখায় ৫ জনের মনোনয়ন পত্র জমা স্মৃতির আয়নায় প্রিয় শিক্ষক কাজী ফয়জুর রহমান স্মৃতির আয়নায় প্রিয় শিক্ষক কাজী ফয়জুর রহমান মাগুরা সদরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৭ শ্রীপুরে ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক কাজী ফয়জুর রহমানের ইন্তেকাল মাগুরার শ্রীপুরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা! শায়লা রহমান সেতুর নির্মম মৃত্যুর বিচারের দাবিতে জাসদের মানববন্ধন সমাবেশে মাগুরায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগে মামলা-মানববন্ধন

ব্যাংক এবং হিসাবরক্ষণ অফিস যোগসাজসে সরকারি অর্থ তসরূপ করেছে-মাগুরা পুলিশ সুপার

মাগুরা প্রতিদিন ডটকম : চেক জালিয়াতির মাধ্যমে মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অন্তত ২ কোটি ৬৫ লক্ষ ৮৫ হাজার ৮৮৩ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।

জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস এবং সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা যোগসাজসে জালিয়াতির মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাত করেছে বলে দাবি করেছেন মাগুরা পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান।

গত বছরের জুলাই মাস থেকে চলতি মাস পর্যন্ত একটি চক্র এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রক্রিয়াটির শুরু ৩ বছর আগে হওয়ায় সরকারি অর্থ আত্মসাথের পরিমাণ আরও কয়েকগুন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাগুরা জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস সূত্রে জানা যায়, মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল মশিউর রহমান (কং-৬৫৮) ২০১৬ সন থেকে ক্যাশ সরকার হিসেবে নিযুক্ত আছেন। এই দায়িত্ব থেকে তিনি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরতদের বেতন, ভ্রমণ ভাতা এবং প্রভিডেন্ট ফাণ্ড সহ সকল প্রকার বিল ভাওচার হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা, চেক গ্রহণ এবং সোনালী ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করতেন।

সেখানে কাজের সূত্র ধরেই জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে তার অবাধ যাতায়াতের সুযোগ। সেই সুযোগে গত মাসের ৩০ তারিখে মশিউর রহমান হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর জাহাঙ্গীর হোসেন শিকদারের ড্রয়ারে থাকা চেকের বান্ডিল থেকে দুটি ব্লাঙ্ক চেক চুরি করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে মশিউরের কাছ থেকে চেক দুটি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ওই চেকে ইচ্ছামাফিক নাম এবং অর্থের পরিমাণ বসানো হয়েছিলো। পরে চেকদুটির অনুকুলে ব্যবহৃত টোকেন নম্বর, অর্থের পরিমাণ এবং এডভাইস পেপার যাচাইকালে বড় মাপের জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

সূত্রটি জানায়, ওই ঘটনার পর বিগত সময়ে পুলিশ অফিসের নির্ধারিত কোডে পরিশোধিত বিভিন্ন চেক যাচাই বাছাই করতে গিয়ে মাগুরা জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস নড়াইল জেলায় বাড়ি কনস্টেবল মশিউর রহমানের চেক জালিয়াতির আরও অনেক তথ্যপ্রমাণ পান।

সেখানে দেখা যায় কনস্টেবল মশিউর মাগুরা পুলিশ অফিসের কোডের অনুকুলে পরিশোধিত ১ কোটি ৭৬ লক্ষ ৫৩ হাজার ৪৮৩ টাকা আজমল মুন্সি নামে এক ব্যক্তির একাউন্টে জমা করেছেন। পেশায় পশুরোগ চিকিত্সক এই আজমল মুন্সির বাড়ি কনস্টেবল মশিউরের বাড়ির এলাকায় নড়াইলের মহাজন পাড়ায়। এছাড়া ফিরোজ হোসেন নামে অপর এক কনস্টেবলের একাউন্টে ১৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ২শ টাকা এবং জনৈক রুকাইয়া ইয়াসমিন বিচিত্রা নামে অপর একজনের একাউন্টে ৪৯ লক্ষ ৪৯ হাজার ৪শত টাকা জমা করা হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রটি জানায়, ২০১৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তারিখে পশুরোগ চিকিত্সক আজমল মুন্সীর নামে মাগুরা সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় একটি একাউন্ট খোলা হয়। যে একাউন্টের অথোরাইজেশনে “পুলিশ সুপার” অঙ্কিত একটি সিল এবং স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। সে সময় মাগুরায় পুলিশ সুপার হিসেব মনিবুর রহমান দায়িত্বরত থাকলেও এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। অথচ এই আজমল মুন্সি পুলিশ অফিসের কর্মচারি না হওয়া সত্ত্বেও তার নামে পুলিশ সুপারের অথোরাইজেশনে হিসাব নম্বরটি খুলতে মাগুরা সোনালী ব্যাংকের দায়িত্বরত তত্কালিন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আবদুর রশিদ রহস্যজনক কারণে যাচাই বাছাই করেননি।

অন্যদিকে এই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত চেকসমূহ কার্যকর করে তুলতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ক্যাশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কনস্টেবল মশিউর রহমান জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার স্বাক্ষর ব্যবহার করে অনলাইন এডভাইস পেপার তৈরি করেছেন। পাশাপাশি হিসাবরক্ষণ অফিসের সার্ভার এবং মেইল একাউন্ট ব্যবহার করে সোনালী ব্যাংকের অনুকুলে তা প্রেরণ করেছেন বলে জানা গেছে। অথচ এসব কাজের সঙ্গে তারা কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেছেন হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা-অডিটররা।

মাগুরা জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সরকার রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ অফিসের কোডের অনুকুলে উত্তোলিত এবং আত্মসাথকৃত অর্থ সেখানকার কর্মরতদের সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং ঠিকাদারদের জামানতের অর্থ। কিন্তু কনস্টেবল মশিউর আমার স্বাক্ষর জাল করে এসব অর্থ উত্তোলন করেছেন। কিন্তু পেমেন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে এডভাইস পেপারে গড়মিল পাওয়ার পরও ব্যাংক কেনো চেকগুলো ডিজঅনার করেনি জানিনা। তবে এই চক্রটির জালিয়াতি শুরু ২০১৭ সন থেকে। বিগত সময়ের চেক তল্লাশি করলে আত্মসাতকৃত অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান।

এদিকে মাগুরা সোনালী ব্যাংকের এজিএম রশিদুল ইসলাম বলেন, হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে যেসব চেক পাওয়া গেছে সেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখা গেছে সেখানে আমাদের কোনো ত্রুটি নেই। প্রত্যেকের স্বাক্ষর এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই পেমেন্ট দেয়া হয়েছে। জালিয়াতির কোনো ঘটনা থাকলে তার সঙ্গে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারি জড়িত নেই।

এ বিষয়ে মাগুরা পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, জালিয়াতির এই ঘটনাটি মাগুরা হিসাবরক্ষণ বিভাগ এবং সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা যোগসাজসে ঘটিয়েছে। তারা সিস্টেম ভায়োলেট করে নামে বেনামে চেক ইস্যু করে অর্থ তসরূপ করেছে।

তবে চেক জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও কনস্টেবল মশিউর, কনস্টেবল ফিরোজ হোসেনসহ ৪ জনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2022
IT & Technical Support : BS Technology