মাগুরা প্রতিদিন : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে গভীর রাতে রীতিমতো দুঃসাহসিক ও সংগঠিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বুলডোজার ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে র্যাব-পুলিশের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘ইয়াসিন বাহিনী’ নামে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে আলীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আগামী ৩১ মে এই এলাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত এই হামলায় সন্ত্রাসীরা সামরিক কৌশল অনুসরণ করে চারদিক থেকে ক্যাম্পটি ঘিরে ফেলে। আশপাশের উঁচু পাহাড়ি টিলা দখলে নিয়ে তারা অবস্থান নেয় এবং বসতঘরের টিনের বেড়া ছিদ্র করে সেখান দিয়ে অস্ত্রের নল বের করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। হামলায় একে-৪৭সহ বিভিন্ন ধরনের অটোমেটিক রাইফেল ব্যবহার করা হয়।
এদিকে, র্যাবের জন্য নির্মাণাধীন একটি নতুন ক্যাম্প—যার প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল—এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমান অস্থায়ী ক্যাম্পটিও ভাঙার চেষ্টা চালানো হয়। তবে পাশে একটি স্কুল থাকায় হামলাকারীরা পুরোপুরি এগোতে পারেনি। তবুও স্কুল ভবনটি রক্ষা পায়নি; সেটিও ভাঙচুর করা হয়েছে।
হামলার সময় ক্যাম্পে অবস্থানরত যৌথবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তীব্র গোলাগুলি হয়। এ সময় একদিকে সংঘর্ষ চলাকালেই অন্যদিকে চলে ভাঙচুরের তাণ্ডব।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে বায়েজিদ সড়কজুড়ে বিভিন্ন কালভার্ট ও রাস্তা ভেঙে ফেলা হয়, যাতে করে দ্রুত অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারে। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং রিইনফোর্সমেন্ট বিলম্বিত হয়। পরে অতিরিক্ত সদস্যরা পায়ে হেঁটে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পে পৌঁছে প্রতিরক্ষা জোরদার করেন।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন,
“দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে র্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়েন।”
তিনি আরও জানান, “অতিরিক্ত ফোর্স যাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারে, সে জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ও কালভার্ট কেটে রাখা হয়েছিল। তবে সব বাধা অতিক্রম করে বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।”
এ ঘটনায় কয়েকজন সন্ত্রাসী পালিয়ে গেলেও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। বর্তমানে পুরো জঙ্গল সলিমপুর এলাকা ঘিরে যৌথবাহিনীর ব্যাপক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গভীর রাতে এই দুঃসাহসিক হামলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পাহাড়ঘেরা এই জনপদে সশস্ত্র গোষ্ঠীর এমন সংগঠিত তৎপরতা কতটা বিস্তৃত—তা খতিয়ে দেখতে জোরদার অভিযান চলছে।