আজ, মঙ্গলবার | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | সন্ধ্যা ৭:০৩

ব্রেকিং নিউজ :
সাতলার শাপলা বিল: লাল শাপলার রাজ্যে প্রকৃতি ও জীবিকার গল্প তেলের দাম বাড়তেই মাগুরায় পরিবহন খাতে অস্থিরতা হঠাৎ করে লিটারে ২০ টাকা বাড়ল সব জ্বালানি তেলের দাম ন্যাম ভবনে জামায়াতের সেই এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীর ম/রদে/হ মাগুরা সাইবার সেলের সাফল্য-আগস্ট মাসে উদ্ধার ৪১ মোবাইল শ্রীপুরে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ১১ জন আটক ৬০ বছর বয়সে ইয়াবা কারবার, ৫০০ পিসসহ গ্রেফতার জামিনে মুক্তির পর কারাফটক থেকে ফের গ্রেপ্তার শ্রীকোল ইউপি চেয়ারম্যান কুটি মাগুরায় মুক্তিপণের দাবিতে মাইক্রোচালক অপহরণ, ৩ ঘণ্টায় উদ্ধার মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পেলেন মুনিরুল ইসলাম মঞ্জু

মাগুরা পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান শহীদ রাশেদ পিতা মাজেদ খন্দকার

মাগুরা প্রতিদিন ডটকম : মাগুরা পৌরসভার নির্বাচিত প্রথম চেয়ারম্যান খোন্দকার আবদুল মাজেদ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ খোন্দকার রাশেদের পিতা খোন্দকার আবদুল মাজেদের ১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী ২৪ মার্চ বুধবার।

দিবসটি উপলক্ষে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

একাত্তরে মুক্তযুদ্ধ চলাকালে গঠিত সংগ্রাম কমিটির অন্যতম নেতা খোন্দকার আবদুল মাজেদ ১৯১৮ সালের ১ জানুয়ারি মাগুরার শিবরামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা খোন্দকার ফজলে করিম এবং মা নসিবা খাতুনের সন্তান খোন্দকার আবদুল মাজেদ। তার দাদার নাম সাবেক হোসেন খোন্দকার।

আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরে ১৯৪৯ সালে গঠিত মাগুরা মহাকুমা আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি আশিঁর দশকের শেষ ভাগ পর্যন্ত মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মৃত্যু আগ পর্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মাগুরা মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তিতে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি থাকা অবস্থাতেই সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

শিক্ষাগত জীবনে তিনি এণ্ট্রান্স পাস তিনি। ছাত্র রাজনীতিতেও রয়েছে তার অশেষ অবদান। ১৯৫৪ সালে মাগুরা সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জলিল খাঁন নেতৃত্বে গোলাম মওলা (সাবেক প্রধান শিক্ষক পারনান্দুয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়), গোলাম মজিদ (সাবেক সংসদ সদস্য ঝিনাইদহ) মাগুরায় ৫২’র ভাষা শহীদের স্মরনে প্রথম শহীদ মিনার তৈরি করেন।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সব জেলা ও মহকুমায় সর্বস্তরের ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হয় সংগ্রাম কমিটি। মাগুরাবাসীও একাজে ছিল এগিয়ে। তৎকালীন পাকিস্থানের জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের (যথাক্রমে এম.এন.এ এবং এম.সি.এ) নেতৃত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতায় মাগুরায় ৮ই মার্চ ১৯৭১ সালে গঠিত হয় সংগ্রাম কমিটি। এই সংগ্রাম কমিটির অন্যতম নেতা ছিলেন আলহাজ্ব খোন্দকার আব্দুল মাজেদ।

মাগুরা আওয়ামীলীগ এবং মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রাণ পুরুষ বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকা থেকে ২৯শে মার্চ ১৯৭১ মাগুরায় পায়ে হেটে আগমন করেন।

তাজউদ্দিন মাগুরাতে আসবেন এই সংবাদ পাওয়ার পর থেকে খোন্দকার আব্দুল মাজেদ সহ অন্যান্যরা মাগুরা শহরে অবস্থান করতে থাকেন। পরে তাজউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে আঠারোখাদা গ্রামে তার বড় বোনের বাড়ি (ভাগ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী ইউসুফ) নিয়ে যান এবং সেখানে রাত্রি যাপন করেন।

সেদিন সাবেক মন্ত্রী সোহরাব হোসেন আঠারোখাদায় ঐ স্থানে তাজউদ্দিনের সাথে দেখা করে বঙ্গবন্ধুর গচ্ছিত মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র প্রদান করেন। পরের দিন খোন্দকার আব্দুল মাজেদ সোহরাব হোসেনের গাড়িতে করে তাজউদ্দিনকে সিমান্তে পৌছে দেন। যাবার আগে তাজউদ্দিনের ব্যবহৃত চাইনিজ পিস্তল খোন্দকার আব্দুল মাজেদের নিকট রেখে যান যা যুদ্ধ পরর্বতী সময় খোন্দকার আব্দুল মাজেদ সাহেব ঢাকা যাবার পথে ডাকাতের কবলে পড়ে পিস্তলটি ছিনতাই হয়ে যায়।

খোন্দকার আব্দুল মাজেদ সাহেব মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি মিরপুর আনসার ক্যাম্প ও ভারত থেকে হোম গার্ড, সিভিক গার্ড, পি.এন.জি, মুজাহিদ, আনসার ও মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সর্ব প্রকার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। খোন্দকার আব্দুল মাজেদ সাহেবের নেতেৃত্বে মাগুরাতে সর্ব প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের শুরুতে তিনি নিজ নামে “মাজেদ বাহিনী” গঠন করেন যা সেক্টর কমান্ড কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করে। তিনি সর্ব প্রথম মাগুরাতে গণবাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নির্দেশে বাহিনীর সহ অধিনায়ক ভাগ্নে কাজী ইউসুফের নেতৃত্বে বাহিনীর সদস্যরা মাগুরা আনসার ক্যাম্প লুণ্ঠন করে। তিনি যুদ্ধের শুরুতে আকবর বাহিনী (শ্রীপুর বাহিনী) গঠনে সহায়তা করেন ও ১০ টি রাইফেল প্রদান করেন।

খোন্দকার আব্দুল মাজেদ স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজে অংশ গ্রহণের সাথে সাথে নিজের সন্তানসহ পরিবারের নিকটাত্নীয়দেরকেও নিজের বাহিনীতে যোগদান করায় এবং তারাও বীরত্বের সাথে যুদ্ধে অগ্রনী ভূমিকা পালন করে। তাদের মধ্যে অন্যতম সন্তান খোন্দকার রাশেদ আলী।

১৯৭১ এর ২৬ শে নভেম্বর শৈলকুপার কামান্নায় ২৭ জন সহযোদ্ধাসহ খোন্দকার রাশেদ পাক সেনাদের গুলিতে শহীদ হন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার কিছু দিন পূর্বে পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারা খোন্দকার আব্দুল মাজেদ সাহেবের গ্রামের বাড়ি শিবরামপুরে লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করে।

খোন্দকার আবদুল মাজেদ মাগুরা পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ১৯৭২ থেকে ১‘৯৮২ সন পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

অত্যন্ত সাদাসিদা জীবন যাপনে অভ্যস্ত খাটি দেশপ্রেমি খোন্দকার আবদুল মাজেদ ২০০৪ সনের ২৪ মার্চ মৃত্যু বরণ করেন।

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2022
IT & Technical Support : BS Technology