মাগুরা প্রতিদিন: কম্পিউটারের একটিমাত্র ‘মিস টাইপিং’-আর তাতেই ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল উঠল ৫০৬ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ৯৫৯ টাকা! মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই ভূতুড়ে ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাণ্ডে অবশেষে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বরখাস্ত করা হয়েছে সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মহিতুল ইসলামকে, এবং দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতির অভিযোগে আরও চার কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের বাসিন্দা মোছা. আলোয়া খাতুনের সাথে। সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে তাঁর মাথা খারাপ অবস্থা! বিলে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ২৩৫ ইউনিট লেখা থাকলেও পরিশোধযোগ্য টাকার জায়গায় বসানো হয় ৫০৬ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ৯৫৯ টাকা। অথচ ওই মাসে তাঁর প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা।
মঙ্গলবার গ্রাহক আলোয়া খাতুন মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে গিয়ে অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি জানালে কর্তৃপক্ষ ভুল সংশোধন করে নতুন বিল তৈরি করে দেয়। পরবর্তীতে তিনি সংশোধিত ১হাজার ৯৬৩ টাকার বিল পরিশোধ করেন।
অস্বাভাবিক বিল তৈরির মাধ্যমে চরম গাফিলতির প্রমাণ দেওয়ায় মঙ্গলবারই মাগুরার আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম রেজাউল করিম, বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী দাস, বিলিং সহকারী সোমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার তোরাব আলীকে শোকজ করা হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে বুধবার মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে যশোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম ফজলুল আনোয়ার জিএমের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।