মাগুরা প্রতিদিন : মাগুরায় অভাবের তাড়নায় এক বাবা নিজের অজান্তেই যেন হারিয়ে ফেলেছিলেন মানবিকতার পথ। দেড় মাসের কন্যা সন্তানকে স্ত্রীর অগোচরে অন্যের হাতে তুলে দেন তিনি। আর সেই শূন্যতা ঢাকতে সাজান ‘জ্বিন-পরীর’ গল্প। তবে সব অন্ধকার ভেদ করে শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় সন্তানের মুখ ফিরে পেয়েছেন মা তানজিলা খাতুন—ফিরে পেয়েছে ছোট্ট টুকটুকি তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, মায়ের কোলে।
ঘটনাটি মাগুরার সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী গ্রামের।
জানা যায়, গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে মাত্র ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নবজাতক কন্যা শিশু টুকটুকিকে মাগুরা সদর উপজেলার দক্ষিণ বীরপুর এলাকার শাহাবুর ও মনিরা খাতুন দম্পতির কাছে তুলে দেন সাগর। পুরো বিষয়টি গোপন রেখে তিনি স্ত্রীর কাছে ভিন্ন গল্প বলতে থাকেন।
কিন্তু ঘটনার পর বিছানায় সন্তানকে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মা তানজিলা। তার অস্থিরতা, কান্না আর খোঁজাখুঁজির মাঝে সাগর জানান—জ্বিন শিশুটিকে নিয়ে গেছে। এমনকি সেই কথার সত্যতা প্রমাণে বাড়িতে ফকির এনে ঝাড়ফুঁকের আয়োজনও করা হয়। তবু মায়ের মন তা মানতে পারেনি।
সন্তানের টানে শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়ির পাশের শত্রুজিতপুর পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে বিষয়টি জানান। এরপর মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের নির্দেশনায় শুরু হয় তদন্ত।
তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মাগুরা সদর থানা পুলিশ শাহাবুর ও মনিরা খাতুন দম্পতির বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। সন্ধ্যায় টুকটুকিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়—যেখানে ফিরে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন তানজিলা।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির বাবা সাগর হোসেন, ক্রেতা দম্পতি এবং জয় নামে মাগুরা সদর হাসপাতালের এক কর্মচারিকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মাগুরা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, শিশুটির বাবা স্বীকার করেছে যে সে অভাবের কারণে শিশুটিকে বিক্রি করে দেয়। তবে এ ঘটনার সাথে আর কোনো পক্ষের লাভালাভের বিষয় আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।