আজ, বুধবার | ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | রাত ১১:১৭

ব্রেকিং নিউজ :
এআই ট্রাফিক ব্যবস্থা ঘিরে নতুন প্রতারণা-বিআরটিএ-এর সতর্কবার্তা স্বর্ণজয়ী ইয়াসমিনকে শ্রীপুরে সংবর্ধনা, বালিকা ফুটবল দলও পেল পুরস্কার জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব -পুলিশের ক্যাম্প বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইয়াসিন বাহিনী তেলবোঝাই ট্রাক ছিনতাই, চালককে হত্যা—এক সপ্তাহ পর উন্মোচিত চাঞ্চল্যকর রহস্য মাত্র ১শ ২০ টাকায় পুলিশের চাকরি সংসদ ভবন থেকে উধাও ১৩৪৩ কপার বার, তদন্তে অনিয়মের অভিযোগ ঝিনাইদহ ছাত্রদল নেতার মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা তারেক গ্রেফতার মাগুরার রাজশাহী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার : কারখানার টয়লেটে নেই সাবান মাগুরায় সম্ভাব্য হামলা থেকে বেঁচে গেলেন পাটোয়ারী ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, থানায় অবস্থান

এআই ট্রাফিক ব্যবস্থা ঘিরে নতুন প্রতারণা-বিআরটিএ-এর সতর্কবার্তা

সঞ্জয় কুমার দত্ত : রাজধানীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি অভিনব সাইবার প্রতারণা চক্র।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর নাম ব্যবহার করে নিখুঁত সব ভুয়া ওয়েবসাইট ও খুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে সরাসরি গাড়ি চালক এবং মালিকদের টার্গেট করছে এই চক্রটি। প্রযুক্তি সম্পর্কে জানাশোনা থাকা সাধারণ মানুষও এই বিভ্রান্তিকর ফাঁদে পা দিয়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা।

এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) একটি জরুরি সতর্ক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, একটি অসাধু চক্র বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি)-এর আদলে বেশ কিছু ভুয়া ও নকল ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। সেসব নকল ওয়েবসাইটের লিংক মোবাইলে পাঠিয়ে চালকদের কাছ থেকে স্পিডিং ফাইন বা বকেয়া জরিমানার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিআরটিএ স্পষ্ট করেছে যে, এসব জাল পোর্টাল বা লিংকের সাথে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং এগুলো সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক কার্যক্রম।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ভুয়া ও ক্ষতিকারক লিংকসমূহ:
বিআরটিএ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে গাড়ি মালিকদের নিচের জাল লিংকগুলো দেখা মাত্রই পরিহার করার অনুরোধ জানিয়েছে:

* bspbrtn-gov.cc
* bsp.brtagov.top
* bsp.brta.vu/bd
* bsp.brtas.vu/bd
* bspbrtai-gov.cc
* bsapqzc.lat
* bsp.brtas.cfd

বিআরটিএ মনে করিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের সব আসল ওয়েবসাইট .gov.bd ডোমেইন দিয়ে নিবন্ধিত থাকে। বিআরটিএ-এর একমাত্র আসল ও অফিশিয়াল সার্ভিস পোর্টাল হলো bsp.brta.gov.bd। এর বাইরে অন্য কোনো লিংকে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

নতুন প্রতারণার কৌশল ও গাড়িমালিকদের অভিজ্ঞতা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ মে থেকে ঢাকা মহানগরীতে এআই নজরদারির আওতায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের ফোনে মামলা ও দণ্ড সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্যকে কাজে লাগিয়ে এই প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে।

প্রতারকেরা গ্রাহকদের ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে দাবি করছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিডিও নজরদারি ব্যবস্থা অনুযায়ী চালক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং ক্যামেরায় তার অবৈধ গাড়ি চালানোর বিষয়টি ধরা পড়েছে। গ্রাহকদের আতঙ্কিত করতে মেসেজে একটি অবিকল সরকারি ফরম্যাটের মতো ভুয়া মামলা নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জরিমানা পরিশোধের আলটিমেটাম দেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চালকদের দ্রুত টাকা পরিশোধে বাধ্য করতে ‘৭ দিনের মধ্যে দিলে ৫০ শতাংশ ছাড়’ দেওয়া হবে—এমন লোভনীয় অফারও দেওয়া হচ্ছে। আবার টাকা না দিলে যানবাহন জব্দ করার মতো আইনি হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

মেসেজের সাথে থাকা নকল লিংকগুলোতে প্রবেশ করলে হুবহু সরকারি পোর্টালের মতো পেজ আসে, যা পরিবহনসংক্রান্ত সরকারি প্ল্যাটফর্মের আদলে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি। সেখানে গ্রাহক নিজের গাড়ির নম্বর দিলে যেকোনো ভুয়া লোকেশনে আইন লঙ্ঘন হয়েছে বলে দেখানো হয়। পরবর্তীতে বিকাশ, রকেট, নগদ বা ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে “জরিমানা” পরিশোধ করতে গেলে অর্থ সরাসরি প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে এবং গ্রাহকের পিন, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি (OTP) চুরি হয়ে অ্যাকাউন্ট শূন্য হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

ব্যবহার করা হচ্ছে বিদেশি নম্বর
প্রতারণামূলক এসব বার্তা সাধারণত বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো হয়। সম্প্রতি কয়েকজন গ্রাহকের ফোনে আসা বার্তার প্রেরক নম্বর যাচাই করে দেখা গেছে, সেগুলোর আন্তর্জাতিক কলিং কোড ফিলিপাইনের (+৬৩)। বিদেশি ভার্চুয়াল নম্বর ব্যবহার করার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের আসল লোকেশন বা পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া সাধারণ মানুষও স্ক্রিনে বিদেশি নম্বর দেখলে এটিকে আন্তর্জাতিক স্বয়ংক্রিয় অফিশিয়াল সার্ভার মনে করে ভুল করছেন। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ১১ ডিজিটের দেশি ব্যক্তিগত নম্বর বা স্পুফিং প্রযুক্তির সাহায্যে “BRTA”, “Traffic” ইত্যাদি নাম দিয়েও মেসেজ পাঠানো হচ্ছে।

ডিএমপি-এর স্পষ্ট বক্তব্য
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্চিত করেছে যে, এসব এসএমএস সম্পূর্ণ ভুয়া এবং ট্রাফিক বিভাগ থেকে পাঠানো হয়নি। বর্তমানে এআই (AI) কেস শুধুমাত্র ঢাকা মহানগরীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে, ঢাকার সাভার বা অন্যান্য অঞ্চলের মহাসড়কে এ ধরনের মামলার কোনো কার্যক্রম এখনো শুরুই হয়নি।

ডিএমপি জানিয়েছে, এআইভিত্তিক ট্রাফিক আইন প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে কোনো জরিমানার তথ্য পাঠানো হচ্ছে না; আপাতত শুধুমাত্র ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে মোবাইলে নোটিফিকেশন পাঠানোর ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হলে তা শুধুমাত্র ০১৩২০-০৪২২০৭ এবং ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর থেকে পাঠানো হতে পারে।

কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এসএমএস বা অন্য কোনো মাধ্যমে তারা কখনোই কারও পিন নম্বর, পাসওয়ার্ড বা ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) জানতে চায় না। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে নির্ধারিত হেল্পলাইন নম্বর অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লেখক : পর্যটক ও ব্যাংক কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2022
IT & Technical Support : BS Technology