সঞ্জয় কুমার দত্ত : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা। বর্ষা পেরিয়ে শরৎ নামতেই এই জনপদের বিস্তীর্ণ জলাভূমি যেন বদলে যায় এক অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্যে। টলটলে পানির ওপর ফুটে থাকা অসংখ্য লাল শাপলা দূর থেকে মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে কেউ যেন বিছিয়ে দিয়েছে বিশাল এক লাল গালিচা। ভোরের প্রথম আলো পানিতে পড়তেই শাপলার পাপড়িতে ফুটে ওঠে কোমল আভা। বাতাসে দুলতে থাকে ফুল, পানিতে তৈরি হয় ছোট ছোট ঢেউ। আর সেই জলরাশির বুক চিরে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে ছোট ছোট নৌকা।
এই দৃশ্য দেখতে এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুরা। কারও হাতে ক্যামেরা, কারও হাতে মোবাইল ফোন। কেউ নৌকার বৈঠার ছন্দ উপভোগ করেন, কেউ আবার লাল শাপলার রাজ্যের ছবি ধারণ করেন স্মৃতির পাতায়।

বরিশাল শহর থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ কিলোমিটার উত্তরে উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের উত্তর সাতলা ও আশপাশের এলাকায় এই জলাভূমির অবস্থান। স্থানীয়ভাবে এটি সাতলা বিল নামে পরিচিত হলেও লাল শাপলার আধিক্যের কারণে পর্যটকদের কাছে ‘শাপলা বিল’ কিংবা ‘লাল শাপলার বিল’ নামেই বেশি পরিচিত। মূল বিলের আয়তন প্রায় ২০০ একর বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে বর্ষাকালে আশপাশের প্লাবনভূমি ও জলাভূমিতে শাপলার বিস্তার আরও বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
ভোরের আলোয় বদলে যায় বিলের রূপ
সাতলার শাপলা বিল দেখার সবচেয়ে ভালো সময় ভোর। সূর্যের তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক শাপলা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। তাই সকাল সকাল বিলে পৌঁছাতে পারলে দেখা যায় সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত শাপলার অপূর্ব সমারোহ।
ছোট ডিঙি নৌকা যখন শাপলার ফাঁক দিয়ে এগিয়ে যায়, তখন চারপাশের দৃশ্য আরও মায়াবী হয়ে ওঠে। নৌকার বৈঠার প্রতিটি টানে পানিতে তৈরি হয় ছোট ছোট ঢেউ। সেই ঢেউয়ে দুলতে থাকে শাপলার পাতা ও ফুল। কোথাও জেলে মাছ ধরছেন, কোথাও পানকৌড়ি পানিতে ডুব দিচ্ছে, আবার কোথাও সাদা বক কিংবা মাছরাঙা খাবারের সন্ধানে অপেক্ষা করছে।
পাখির ডাক, বৈঠার শব্দ, পানির মৃদু কলকল ধ্বনি আর লাল শাপলার সমারোহ—সব মিলিয়ে সাতলার সকাল যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক জীবন্ত ছবি।

বিলে লাল শাপলার আধিক্য থাকলেও সাদা ও বেগুনি শাপলাও দেখা যায়। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, তাঁদের শৈশব থেকেই এই জলাভূমিতে শাপলা ফুটতে দেখে আসছেন তাঁরা। ঠিক কত বছর ধরে এখানে এভাবে শাপলা জন্মাচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য অবশ্য নেই।
জলাভূমির সঙ্গে মানুষের জীবন
সাতলার গল্প শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের নয়। এই গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মানুষের জীবন ও জীবিকা।
বর্ষার কয়েক মাস এই জলাভূমি হয়ে ওঠে শাপলা সংগ্রহের অন্যতম ক্ষেত্র। স্থানীয় অনেক পরিবার বিল থেকে শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে আয় করেন। কারও কাছে শাপলা পর্যটকের চোখে সৌন্দর্যের প্রতীক, আবার কারও কাছে সেটিই সংসারের আয়-রোজগারের অন্যতম অবলম্বন।

স্থানীয় শাপলা সংগ্রহকারীদের অনেকে ভোর কিংবা বিকেলে নৌকা নিয়ে বিলে নামেন। পানিতে নেমে অথবা নৌকা থেকে শাপলা সংগ্রহ করে সেগুলো আটি বেঁধে বাজারে পাঠানো হয়। বিভিন্ন সময়ের স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, শাপলা সংগ্রহের সঙ্গে সাতলা ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বহু পরিবার যুক্ত।
সম্প্রতি স্থানীয় শাপলা সংগ্রহকারী গীতা রানী দাস ও তাঁর মেয়ে শর্মিলা দাসের কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। তাঁরা বিলের পানিতে নেমে শাপলা সংগ্রহ করেন এবং পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দৈনিক কয়েকশ টাকা আয় করেন। বর্ষার কয়েক মাস এই আয় তাঁদের সংসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত শাপলা উজিরপুর, আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ ও বরিশাল শহরের বিভিন্ন বাজারে যায়। জেলার বাইরেও সাতলার শাপলা সরবরাহ করা হয়। ফলে বিলের শাপলা স্থানীয় মানুষের কাছে একদিকে যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য, অন্যদিকে তেমনি একটি মৌসুমি অর্থনৈতিক সম্পদ।
শাপলার সঙ্গে কৃষি ও মাছের সম্পর্ক
সাতলার জলাভূমির সঙ্গে কৃষি ও মৎস্যজীবনেরও রয়েছে গভীর সম্পর্ক। বর্ষায় নিচু জমি পানিতে ডুবে গেলে সেখানে শাপলা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদের বিস্তার ঘটে। শীতের শুরুতে পানি কমে গেলে অনেক এলাকায় কৃষিকাজ শুরু হয়।
অর্থাৎ বছরের এক সময়ে যে ভূমি শাপলায় ঢেকে যায়, অন্য সময়ে সেখানেই কৃষিকাজ হতে পারে। এই মৌসুমি পরিবর্তন সাতলার মানুষের জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
অনেকে শাপলা সংগ্রহের পাশাপাশি মাছ ধরেন, কৃষিকাজ করেন কিংবা ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ফলে জলাভূমিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি বহুমুখী গ্রামীণ অর্থনীতি।
পর্যটনে বদলে যাচ্ছে সাতলার অর্থনীতি
সাতলার শাপলা এখন স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগে যেখানে বিল ছিল মূলত স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও জলাভূমিনির্ভর জীবনযাপনের অংশ, সেখানে এখন পর্যটনও যুক্ত হয়েছে।
শাপলার মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে স্থানীয় মাঝিদের হিসাবে বলা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ সাতলার বিল দেখতে আসেন। শুক্র ও শনিবার এই সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যায়। পর্যটকদের নিয়ে কয়েকটি স্পটে অর্ধশতাধিক নৌকা চলাচল করে বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পর্যটকের আনাগোনায় শুধু নৌকার মাঝিরাই উপকৃত হচ্ছেন না। স্থানীয় খাবারের দোকানি, অটোরিকশাচালক, ছোট ব্যবসায়ী, পণ্য বিক্রেতা এবং বিভিন্ন সেবাদাতা মানুষের আয়ও বাড়ছে।
স্থানীয় মাঝিদের হিসাবে, পর্যটকদের নিয়ে চলাচল করা নৌকাগুলো থেকে সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে। অবশ্য পর্যটকের সংখ্যা, সপ্তাহের দিন, আবহাওয়া ও মৌসুমের ওপর এই আয় কমবেশি হয়।
এভাবেই লাল শাপলার সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে সাতলায় তৈরি হয়েছে একটি মৌসুমি পর্যটন অর্থনীতি।
নৌকায় ঘুরেই দেখতে হয় সাতলা
সাতলার প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে নৌকায় উঠতে হয়। স্থলভাগ থেকে বিলের বিস্তৃত শাপলা দেখা গেলেও পানির ভেতর দিয়ে চলার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা।
শাপলার ফাঁক দিয়ে নৌকা এগিয়ে যাওয়ার সময় চারপাশে শুধু ফুল আর পানি। দূরে দেখা যায় গ্রামের ঘরবাড়ি। কোথাও জেলেদের নৌকা, কোথাও পাখির বিচরণ। মাঝে মাঝে বৈঠার শব্দ ছাড়া চারপাশে নেমে আসে এক ধরনের প্রশান্ত নীরবতা।
ভোরের নরম আলোয় লাল শাপলার পাপড়ি যখন পানির ওপর ভেসে থাকে, তখন মনে হয় পুরো বিলটাই যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা একটি বিশাল জলরঙের ছবি।
স্থানীয়ভাবে ছোট নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। বিভিন্ন সময়ের ভ্রমণবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, নৌকার ভাড়া প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে মৌসুম, নৌকার আকার, সময় ও যাত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে ভাড়া পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নৌকায় ওঠার আগে ভাড়া ও সময় সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে কথা বলে নেওয়া ভালো।

শাপলা দেখতে গিয়ে শাপলা নষ্ট নয়
সাতলার সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর সংরক্ষণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে পর্যটকদের শাপলা ছিঁড়ে নেওয়া এবং নৌকা সাজানোর জন্য ফুল সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড জলাভূমির স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
একজন পর্যটক একটি ফুল ছিঁড়ে নিলে হয়তো তা সামান্য ক্ষতি বলে মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন শত শত পর্যটক একই কাজ করলে তার সম্মিলিত প্রভাব বড় হতে পারে। যে সৌন্দর্য দেখতে মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আসে, সেই সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্বও তাই পর্যটকদের।
সাতলায় গিয়ে শাপলা না ছেঁড়া, শাপলার ক্ষেতের ওপর দিয়ে নৌকা না চালানো এবং পাখি ও জলজ প্রাণীকে বিরক্ত না করা জরুরি।
বাড়ছে প্লাস্টিক বর্জ্যের ঝুঁকি
পর্যটনের প্রসারের সঙ্গে সাতলা বিলের পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য জলাভূমির পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি নৌকায় বর্জ্য ফেলার ঝুড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পর্যটকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বিলের পানিতে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে নিজের সঙ্গে থাকা প্লাস্টিকের বোতল বা খাবারের প্যাকেটও সঙ্গে করে ফিরিয়ে আনা উচিত।
গড়ে উঠছে পর্যটন অবকাঠামো
সাতলার পর্যটন সম্ভাবনা বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছর ১৫ লাখ টাকা এবং চলতি বছর আরও ৫ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
পটিবাড়ি ও মুড়িবাড়িতে দুটি ভিউ পয়েন্ট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পর্যটকদের বসার স্থান, ঘাট, নিরাপদ নৌযান চলাচল, স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত স্থাপনা বা অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড যেন জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট না করে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
কীভাবে যাবেন
সাতলায় যেতে হলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে বরিশাল শহরে আসা সুবিধাজনক।
ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশালে এসে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে উজিরপুর বা সাতলাগামী যানবাহনে যাওয়া যায়। শিকারপুর বা উজিরপুরের সুবিধাজনক স্থান থেকে অটোরিকশা, মাহেন্দ্র কিংবা স্থানীয় যানবাহনে সাতলা পৌঁছানো যায়।
ঢাকা থেকে নৌপথেও বরিশাল আসা যায়। রাতে লঞ্চে বরিশালে এসে ভোরে সড়কপথে সাতলার উদ্দেশে রওনা দিলে শাপলা দেখার উপযুক্ত সময়ের মধ্যে বিলে পৌঁছানো সম্ভব।
ভোরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগের দিন বরিশাল শহরে অবস্থান করাও সুবিধাজনক হতে পারে।
খাবার ও থাকার ব্যবস্থা
সাতলার আশপাশে স্থানীয় খাবারের দোকান ও ছোট ব্যবসা রয়েছে। পর্যটন মৌসুমে এসব দোকানে খাবারের ব্যবস্থা পাওয়া যায়। তবে বড় পরিসরের পর্যটন অবকাঠামো এখনও সীমিত। পরিবার নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় পানি ও হালকা খাবারের কিছু ব্যবস্থা সঙ্গে রাখা ভালো।
থাকার ক্ষেত্রেও বরিশাল শহরকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা সুবিধাজনক। সাতলায় পর্যটন অবকাঠামো আরও উন্নত হলে স্থানীয় পর্যায়ে আবাসন ও খাবারের সুবিধাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একদিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা
সাতলা ঘুরতে চাইলে ভোরে যাত্রা করাই সবচেয়ে ভালো। বরিশাল শহর থেকে খুব সকালে রওনা হয়ে সকালেই সাতলা পৌঁছানো যায়। এরপর নৌকা নিয়ে বিলের ভেতর ঘুরে শাপলা, পাখি ও জলাভূমির দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপ বাড়বে এবং অনেক শাপলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই ছবি তোলা ও নৌভ্রমণের জন্য সকালের প্রথম ভাগকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
নৌভ্রমণ শেষে স্থানীয় খাবার খেয়ে আশপাশের গ্রাম ও বাজার ঘুরে দেখা যায়। এরপর দুপুরের দিকে বরিশাল শহরে ফিরে আসা সম্ভব।
প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থানের গল্প
সাতলার শাপলা বিলের সৌন্দর্য আসলে শুধু লাল ফুলের সৌন্দর্য নয়। এর সৌন্দর্য ভোরের আলোয়, নৌকার বৈঠার শব্দে, পানকৌড়ির ডুব দেওয়ায়, বকের বিচরণে, জেলেদের নৌকায় এবং শাপলা সংগ্রহ করে সংসার চালানো মানুষের কর্মযজ্ঞে।
একদিকে পর্যটকের চোখে এটি প্রকৃতির অপূর্ব ক্যানভাস, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের কাছে এটি জীবিকার অংশ। এই দুই বাস্তবতার সমন্বয়ই সাতলাকে আলাদা করে তুলেছে।
সাতলার ভবিষ্যৎ তাই শুধু পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে নয়; বরং প্রকৃতি সংরক্ষণ, স্থানীয় মানুষের জীবিকা, নিরাপদ পর্যটন ও পরিকল্পিত অবকাঠামো—এই বিষয়গুলোকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার মধ্যে।
প্রতি বছর আবারও সাতলার জলরাশিতে ফুটবে লাল শাপলা। নৌকা এগিয়ে যাবে ফুলের ফাঁক দিয়ে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসবে সেই সৌন্দর্য দেখতে। সেই সৌন্দর্য যেন আগামী দিনেও একইভাবে অমলিন থাকে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
বরিশালের উজিরপুরের সাতলা এখন শুধু শাপলার বিল নয়, এটি বাংলার জলাভূমি, প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থানের এক জীবন্ত গল্প। গ্রামীণ পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিরও এক সম্ভাবনাময় কেন্দ্র।
লেখক : পরিব্রাজক ও ব্যাংকার।