মাগুরা প্রতিদিন: জামায়াত গণহত্যার বিচার নিয়ে খুববেশি স্বোচ্চার নয়। তারা ক্ষমতায় যেতে লালায়িত। আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে যদি ক্ষমতায় যাওয়া যায় তাহলে সেই কাজে তারা মরিয়া হয়ে উঠবে এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মাগুরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ মেহেদী হাসান রব্বির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, জামায়াতের আমির সরকার পতনের এক মাসের মাথায় আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা করে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। এ অপরাধের বিচার হওয়া উচিত। এনসিপির নেতারা একসময় জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে আখ্যা দিলেও এখন তাঁরা নীরব। তাঁর অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনকে বিক্রি করে তাঁরা বিলাসী জীবনযাপন করছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এনসিপি ১৮ মাস ধরে সারা দেশে লুটপাট করেছে বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খান। তাঁর দাবি, আরও কিছুদিন সুযোগ পেলে তারা আওয়ামী লীগকেও হার মানাত।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে। তারা ছিল ভারতের আওয়ামী লীগের একটি ‘এক্সটেনশন’। সেই গোষ্ঠীর অধিকাংশই পালিয়েছে, কিছু দোসর এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের মোকাবিলায় ছাত্রদলই যথেষ্ট, অন্য কোনো সহযোগী সংগঠনের প্রয়োজন নেই।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিদেশি চাপ প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ভারতের কাছে মাথানত করে বিএনপি দেশ পরিচালনা করবে না। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত বাংলাদেশকে কোনো চাপ দিচ্ছে—এমন তথ্য তাঁর জানা নেই।
ভারতীয় হাইকমিশনারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে অন্যায় করেছে। বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইলে শেখ হাসিনা ও শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের, যারা ভারতে পালিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, তাদের বাংলাদেশের সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এর আগে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ খুবই কম।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর রাশেদ খান শহীদ মেহেদী হাসান রব্বির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের খোঁজখবর নেন। এ সময় মাগুরা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।