আজ, শনিবার | ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | রাত ১২:০৪

ব্রেকিং নিউজ :

লোভ সংবরণ করতে পারলেন না কারা তারা?

মাগুরা প্রতিদিন : খুরশিদা বেগম-মাগুরার মহম্মদপুরের এক মানসিক ভারসাম্যহীন, অসহায় নারী। তার দিন কাটে পথে পথে, রাত কাটে  সরকারি ভবনের বারান্দায় কিংবা কোনো খোলা প্রকৌষ্ঠে। এমনই একটি খোলা স্থানে দরজা লাগাতে তিনি অন্যের কাছে হাত পেতে লাখ টাকা কুড়িয়ে সরকারি অফিসে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু সেই টাকার লোভ সংবরণ করতে পারেননি  সেখানকার দায়িত্বশীলরা।

অসহায় নারীর কষ্টার্জিত টাকা আত্মসাথের ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।

চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদে। মানসিক ভারসাম্যহীন অসহায় ওই নারীর টাকা আত্মসাথের ঘটনায় অভিযুক্ত একজন জনপ্রতিনিধি এবং একজন সরকারি কর্মচারিকে শোকজ করা হয়েছে।

খুরশিদা বেগম, মহম্মদপুর উপজেলা সদরের মৃত আব্দুর রশিদের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের আশপাশে ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত কয়েকদিন ধরে তিনি মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের পাশের প্রকৌষ্ঠে একটি টেবিল পেতে ছেলেকে নিয়ে রাতের বেলা ঘুমান। কিন্তু কোনো দরজা না থাকায় ছেলের ঘুমাতে কষ্ট হয়। তাই সেখানে দরজা লাগাতে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় ১ লক্ষ টাকা যোগাড় করেছেন। এরপর সেই টাকা তুলে দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের দায়িত্বশীলদের হাতে।

মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ১০ জুন তিনি উপজেলা পরিষদের নাজির খানায় যান। সেখানে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ওই নারী টাকাগুলো জমা দিয়ে গেটের প্রকৌষ্ঠে একটি দরজা লাগিয়ে দেওয়ার অদ্ভুত আবদার করেন। এ ঘটনায় তার মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই নারীর জন্যে একটি ঘর বরাদ্দের আশ্বাস দিয়ে টাকাগুলো ফেরত নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু ওই নারী টাকাগুলো রেখেই অফিস থেকে বেরিয়ে যান।

এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী টাকাগুলো ওই নারীর হাতে পৌঁছে দিতে দায়িত্ব দেন স্থানীয় ইউপি মেম্বর সিরাজুল ইসলাম এবং উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে। কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তারা সেই টাকা ফেরত দেননি। গত ২৪ জুন ওই দুই ব্যক্তির দায়িত্বহীনতার খবর পেয়ে তাদেরকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন ইউএনও।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, “একজন অসহায় নারীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জবাব সন্তোষজনক না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের প্রশ্ন—যে নারী সামান্য দরজার জন্য মানুষের কাছে হাত পাততে বাধ্য হন, তার সেই টাকাও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে দায়িত্বশীলদের মানবিকতা কোথায়?

শেয়ার করুন...




©All rights reserved Magura Protidin. 2018-2022
IT & Technical Support : BS Technology