মাগুরা প্রতিদিন : জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাগুরায় সাংবাদিকদের নিয়ে অবহিতকরণ সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় মাগুরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
মাগুরা সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. ইমতিয়াজ হোসেন।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন ডা. দেবপ্রিয়া।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২৮ জুন রোববার ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে, যা শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সারা দেশে একযোগে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এ কার্যক্রম চলবে।
মাগুরা জেলায় ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৭৫ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশু রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৩৬৯ জন এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশু প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ৩০৬ জন।
মাগুরা জেলায় মোট ৪টি উপজেলায় ৩৩৬টি স্থায়ী কেন্দ্র ও ১টি অতিরিক্ত কেন্দ্রসহ মোট ৩৪১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়া ১৯৯৯ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি জানান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন ফকির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান (পিপিএম-সেবা), মাগুরা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক আব্দুল হাই, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান সহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টি দূরীকরণে ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত কার্যকর। তাই অভিভাবকদের সচেতন হয়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে অংশ নেন সাংবাদিক সাইদুর রহমান, আবু বাসার আখন্দ, কাজী আশিকুর রহমান, আলিমুজ্জামান উজ্জ্বল।
সভায় জানানো হয়, ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের একটি এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের উচ্চমাত্রার একটি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।